logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo চীন, ভারত, দ.আফ্রিকার সঙ্গে ওবামার সমঝোতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কোপেনহেগেন সম্মেলনে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চীনের নেতাদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে একটি 'অর্থবহ সমঝোতায়' উপনীত হয়েছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, এটি হচ্ছে প্রথম পদক্ষেপ এবং তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় যথেষ্ট নয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, "আজ প্রেসিডেন্ট ওবামা, চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার মধ্যে এক বহুপাক্ষিক বৈঠকের পর একটি 'অর্থবহ সমঝোতা' হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "প্রতিটি বিষয়ে কোনো দেশই পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু এটি একটি অর্থবহ এবং ঐতিহাসিক অগ্রগতি এবং একটি ভিত্তি, যা থেকে আরও আগ্রগতি অর্জিত হবে।"

ধনী এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে গভীর মতপার্থক্যের একদিন পর শেষ মুহূর্তে এই সমঝোতা হলো।

ব্রাজিলও এই সমঝোতাকে অনুমোদন করেছে। তবে এটি জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেওয়া অন্য দেশগুলোকে পাশ কাটিয়ে হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ১৯৩ টি দেশের অনুমোদন নেই এতে। বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে ইইউ রাষ্ট্রগুলো ওই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলো।

বাংলাদেশ সময় ভোর সোয়া পাঁচটায় এক সংবাদ সম্মেলনে ওবামা এই সমঝোতা সম্পর্কে বলেছেন, "এই সমঝোতা আইনি বাধ্যবাধকতা সংবলিত নয়। এবং সেটা করতে আরও সময় লাগবে। তবে এটি একটি অর্থবহ ও নজিরবিহীন অগ্রগতি।"

তিনি একে সহযোগিতার এক 'নতুন যুগ' বলেও অভিহিত করেন।

এই পাঁচ-জাতি সমঝোতার আওতায় ধনী ও গরিব দেশগুলো বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন হ্রাস, একটি 'অর্থায়ন কৌশল' এবং এ ব্যাপারে তাদের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তথ্য বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।

এদিকে ফরাসী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি বলেছেন, সব দেশ একটি সমঝোতায় উপনীত হয়েছে।

১২০ টি দেশের নেতাদের বৈঠক শেষে কোপেনহেগেনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি। আমাদের যে টেক্সট রয়েছে তা নিখুঁত নয়।"

তিনি জানান, এই সমঝোতার আওতায় চীনসহ সবগুলো দেশকে ২০১০ সালের জানুয়ারি নাগাদ কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নির্গমন কমানো সম্পর্কে লিখিত পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। এবং সবগুলো দেশ ২০২০ সাল নাগাদ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্য দেওয়ার পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করেছে।

নেতৃবৃন্দ ১৯৩ টি দেশের কাছেই গ্রহণযোগ্য একটি আপসরফায় পৌঁছানোর জন্য দিনভর চেষ্টা করেন। যা বন্যা, খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রজাতির বিলুপ্তিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলায় কার্যকর হবে।

শুক্রবার বিশ্ব নেতারা একটি নতুন খসড়া টেক্সট নিয়ে আলোচনা করেন, যাতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন অর্ধেকে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এই নতুন খসড়া টেক্সট-এ আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পন্ন একটি জলবায়ু চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য ২০১০ সালের সময়সীমা বাদ দেওয়া হয়েছে।

ইতিপূর্বের খসড়ায় আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পন্ন একটি জলবায়ু চুক্তিতে উপনীত হতে ২০১০ সালের শেষ নাগাদ বর্ধিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিলো। তবে নতুন খসড়া টেক্সটে আগের লক্ষ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এতে বিশ্ব নেতাদের ২০৫০ সাল নাগাদ গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ১৯৯০ সালের মাত্রার চেয়ে অর্ধেকে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে বলা হয়। এবং ধনী দেশগুলোকে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ৮০ শতাংশ কমাতে বলা হয়।

বন্যা, তাপ্রবাহ, প্রজাতির বিলুপ্তি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পায়ন সময়ের চেয়ে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে বলা হয় নতুন টেক্সটে। সেইসঙ্গে টেকসই উন্নয়নের প্রেক্ষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত উদ্যোগের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় গরিব দেশগুলোর জন্য ২০২০ সাল নাগাদ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার সাহায্যের কথা অন্তর্ভুক্ত ছিলো।

পাতাটি ৩৪৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন