logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo চূড়ান্ত চুক্তির চেষ্টা চলছে জলবায়ু সম্মেলনে
বিশ্ব ঊষ্ণায়ন বৃদ্ধি সর্বোচ্চ ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহায়তায় ১০ হাজার কোটি ডলারের জলবায়ু তহবিল সরবরাহ নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে উপনীত হওয়ার চেষ্টা চলছে কোপেনহেগেন সম্মেলনে। শুক্রবার সম্মেলনের একটি খসড়ায় একথা বলা হয়েছে।

খসড়া বিষয়বস্তুতে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন বেশি মাত্রায় কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, "বিশ্বের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়--- এই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণকে স্বীকৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে দ্রুত এবং আরও বেশি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে নবদ্যোমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার লড়াইয়ে নামার প্রতিশ্র"তি দিচ্ছে।"

জলবায়ু তহবিল প্রসঙ্গে এতে বলা হয়, "উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন মোকবেলার প্রয়োজনে সম্মেলনের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ২০২০ সালের মধ্যে একযোগে ১০ হাজার কোটি ডলার সাহায্য দিতে একমত হয়েছে। এ অর্থ বিভিন্ন উৎস থেকে আসবে।"

তাছাড়া, ২০১০-১২ সাল থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অবিলম্বে সাহায্য দেওয়া শুরু করতে বছরে ১ হাজার কোটি ডলার সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রারও রূপরেখা দেওয়া হয়েছে খসড়ায়। এভাবে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি ডলার সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শুক্রবার নতুন একটি জলবায়ু চুক্তি ত্বরান্বিত করতে অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কার্বন হ্রাস করা নিয়ে গোটা রাতের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ওবামা এ বৈঠক করেন।

কার্বন হ্রাসের মূল ইস্যু থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্বের দেশগুলো কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়েই একমত হওয়ার চেষ্টা করেন ওবামা ও অন্যান্য নেতারা।

বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি জানান, কোনও চুক্তি হয়নি। আর চীন কার্ব নির্গমন পর্যবেক্ষণের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে।

বৈঠকে চীনের ভাইস পররাষ্ট্রমন্ত্রী হে ইয়াফি, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে ১৯৩ টি দেশের আলোচকরা বিশ্ব ঊষ্ণায়ন রোধের লড়াইয়ে জলবায়ু তহবিল সরবরাহ এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে একমত হয়েছেন।

বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলো ইতোমধ্যেই বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির অংশ হিসাবে বিভিন্ন দেশের প্রতিশ্র"ত কার্বন নির্গমন হ্রাসের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করে দেখার ওপর জোর দিচ্ছে।

সম্মেলনের খসড়ায় বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো কিছুমাত্রায় তাদের কার্বন নির্গমন হ্রাসের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করতে দিতে রাজি হবে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, এক বা ততোধিক জলবায়ু চুক্তির জন্য পরিপূর্ণ আইনি বিষয়বস্তু চূড়ান্ত হবে ২০১০ সালের শেষ নাগাদ।

এ সম্মেলনের টেক্সট আইনগত বাধ্যবাধকতামূলক হচ্ছে না।

তবে খসড়ায় বলা হয়েছে, আরও বেশি আইনি পদক্ষেপ নিতে দেশগুলো আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে।

আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি করতে দেশগুলো ২০১০ সালের নভেম্বরে মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় পরবর্তী জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের চেয়ে বেশি দেরী করতে রাজি নয়।

পাতাটি ৩৮১ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন