logo



আমার লেখালেখি



আমার প্রিয় লেখা



আমার ছবিঘর



অনলাইনে আছেন

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর নতুন বন্ধু নাজমুল


আমাদের সাথে আছেন ৭৮ জন অতিথী
  

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর অনলাইন ডায়েরী

আপনাদের সকলের উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত এবং বরকত বর্ষিত হোক

ডায়েরী লিখছেন ৭ বছর ১০ মাস ২২ দিন
মোট পোষ্ট ৬১টি, মন্তব্য করেছেন ১৫৪টি


এ্যানথ্রাক্সঃ সতর্ক হওয়ার এখনি সময়

লিখেছেন : আব্দুল্লাহ-আল-নোমান       তারিখ: ০৬-০৯-২০১০



বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লুর রেশ মিলিয়ে যেতে না যেতেই নতুন আতংক হিসেবে হাজির হয়েছে এ্যানথ্রাক্স। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় আজ রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০১০) থেকে এ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে তাদের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি রেড এলার্ট জারি করেছে। মন্ত্রণালয় থেকে সিভিল সার্জন সহ সকল জেলার সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত ২ দিনে নতুন ৪৪টি নতুন কেস সহ ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) এ পর্যন্ত (রবিবার সকাল পর্যন্ত) সারাদেশে ২৯৮ জন এ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগীর কথা নিশ্চিত করেছে।
এ্যানথ্রাক্স প্রথম সনাক্ত করা হয় সিরাজগঞ্জ জেলায়, আগস্ট মাসের শেষের দিকে। পরবর্তীতে এ রোগ দ্রুত পার্শ্ববর্তী জেলা পাবনা, টাঙ্গাইল এবং কুষ্টিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

আসুন এ রোগ সম্পর্কে জানি এবং সচেতন হইঃ

এ্যানথ্রাক্স কি?
এ্যানথ্রাক্স হল Bacillus anthracis নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংঘটিত মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি যা সাধারণত রুমিন্যান্ট (ruminant) বা জাবর-কাটা প্রাণীদের হয়ে থাকে (যেমনঃ গরু, ছাগল, ভেড়া, মেষ প্রভৃতি)।
আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে আসলে কিংবা আক্রান্ত পশুর মাংস খেলে এ্যানথ্রাক্স রোগ মানবদেহে আসতে পারে। মনে রাখতে হবে যে, এ্যানথ্রাক্স মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না।

এ্যানথ্রাক্স কয় প্রকার?
এ্যানথ্রাক্স মুলতঃ ৩ প্রকার--
১। কিউটেনাস এ্যানথ্রাক্স (cutaneous anthrax)-- তিন ধরনের মধ্যে এই এ্যানথ্রাক্স এর প্রকোপ বেশি এবং আমাদের দেশে এটা নিয়েই এখন সবাই আতংকিত। এ্যানথ্রাক্স স্পোর ত্বকের সংস্পর্শে এলে কিউটেনাস এ্যানথ্রাক্স দেখা দেয়। প্রথমে চামড়ায় ছোট ছোট লালচে-বাদামী রঙের ফুসকুরি দিয়ে শুরু হয়। এ ফুসকুরির চারপাশে লালচে রঙ থাকে। সময়ের সাথে সাথে লালচে-বাদামী ফুসকুরির কেন্দ্রে আলসারের মত মুখ দেখা যায় যেখান দিয়ে রক্ত মিশ্রিত রস বের হতে থাকে যা পরে শুকিয়ে গিয়ে কালো শক্ত আবরণ বা ক্রাস্ট (crust) তৈরি করে। এর সাথে মাংসপেশীতে ব্যথা, জ্বর, মাথাব্যাথা এবং বমি বমি ভাব থাকতে পারে।

২। গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল এ্যানথ্রাক্স (gastrointestinal anthrax)-- আক্রান্ত গবাদিপশুর কাঁচা এবং অসিদ্ধ মাংস খেলে গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল এ্যানথ্রাক্স হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের প্রাচীর ভেঙ্গে রক্তে প্রবেশ করে এবং সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বমি বমি ভাব, ক্ষুধামান্দ্য, রক্ত-আমাশয় এবং পেটব্যাথা হতে পারে এমনকি দ্রুত মৃত্যুও হতে পারে।

৩। ইনহেলেশনাল এ্যানথ্রাক্স (Inhalation anthrax)--শুরুতে হালকা জ্বর থাকে পরে নিউমোনিয়া, শক, কোমা এবং মৃত্যু হতে পারে। এটা যদিও বিরল তবে এটাই সবচে মারাত্মক।

চিকিৎসা?
কিউটেনাস এ্যানথ্রাক্স হলে আক্রান্ত/ক্ষত স্থান থেকে সোয়াব (swabs) নিয়ে পরীক্ষা (কালচার) করে এ্যানথ্রাক্স ডায়াগনোসিস করা যায়। তাড়াতাড়ি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করলে কিউটেনাস এ্যানথ্রাক্স সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা যায়। পেনিসিলিন রেজিস্ট্যান্স কিনা তা পরীক্ষার আগেই ট্যাব সিপ্রোফ্লক্সাসিন ৫০০ মিগ্রা দিনে একবার করে দেয়া যেতে পারে। পরীক্ষার পর বেনজাইল পেনিসিলন ৬ লাখ ইউনিট ৬ ঘন্টা পর পর মাংসে অথবা ফেনক্সিমিথাইল পেনিসিলিন ৫০০ মিগ্রা ৬ ঘন্টা পর পর দেয়া যেতে পারে। এর সাথে এমাইনোগ্লাইকোসাইড যোগ করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে। রোগীকে তরল জাতীয় খাবার বেশি খাওয়াতে হবে। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
যারা এ্যানথ্রাক্স প্রবণ এলাকায় আছেন তারা Prophylaxis হিসেবে ট্যাব সিপ্রোফ্লক্সাসিন ৫০০ মিগ্রা ১২ ঘন্টা পর পর খেতে পারেন।

একটু সচেতন হলেই এ রোগের আক্রমণ হতে বাঁচা যায়। আর রোগ দেখা দিলেও ভয়ের বা আতংকিত হওয়ার কিছু নাই। কারন সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে এ রোগের হাত থেকে সম্পূর্ণ নিরাময় লাভ করা যায়।

একনজরে এ্যানথ্রাক্সঃ
১। এ্যানথ্রাক্স ব্যাকটেরিয়া জনিত এক ধরনের সংক্রামক রোগ যা পশু থেকে মানবদেহে ছড়ায়।
২। এ্যানথ্রাক্স মুলতঃ শরীরের ৩টি অংশে হয় (ত্বক, ফুসফুস এবং অন্ত্রে)
৩। আক্রান্ত ত্বক থেকে সোয়াব নিয়ে পরীক্ষা করে সহজেই এ রোগ নিশ্চিত (ডায়াগনোসিস) করা যায়।
৪। অ্যান্টিবায়েটিক খেলে এ রোগ সেরে যায়।
৫। এ্যানথ্রাক্স সম্পূর্নরূপে প্রতিরোধ করা যায়।


সূত্র: লেখাটি সর্বসত্ত্ব সত্ত্বাধিকার সংরক্ষিত সামহোয়্যার ইন ব্লগ এর জর্জিস এর বাংলা ব্লগ।

৩০৮৯ বার পঠিত

 
০৬-০৯-২০১০
যোবায়ের বিন তারেক বলেছেন: এই পোষ্টটি খুবই সন্দুর ও শিক্ষা মূলক। আমরা অনেকে মনেকরি যে এ্যানথ্রাক্স রোগ মানুষ থেকে ছড়ায়। কিন্তু আসলে এটা সত্য নয়। এ্যানথ্রাক্স রোগ মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। এই রোগ সৃষ্টি হচ্ছে জাবর-কাটা প্রাণীদের হয়ে থাকে (যেমনঃ গরু, ছাগল, ভেড়া, মেষ প্রভৃতি) থেকে সেই জন্য ঐসব প্রাণীদের শরীর চেক জবাই করা উচিত এবং না জেনে ঐ সব প্রাণীর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

তাই পোষ্টটিকে স্টিকি করার জন্য অনুরোদ জানানো হলো।


০৬-০৯-২০১০
মো: সোহেল রানা বলেছেন: যদিও লেখাটির সর্বসত্ত্ব সত্ত্বাধিকার সংরক্ষিত সামহোয়্যার ইন ব্লগ এর জর্জিস এর বাংলা ব্লগ তবুও লেখাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সময় উপোযোগী পোষ্ট। এটাকে স্টিকি করলে ভাল হয়।


০৬-০৯-২০১০
মোঃ কাজল আলী বলেছেন: ভাই কপি করে পোষ্ট করলে লিংকটা দিতে হবে।


০৬-০৯-২০১০
আব্দুল্লাহ বলেছেন: সচেতনতামূলক পোস্ট। সবারই সতর্কতা প্রয়োজন।


০৬-০৯-২০১০
মো: আবুল কালাম আজাদ বলেছেন: অনেক গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট।


০৬-০৯-২০১০
মোঃ তরিকুল আলম বলেছেন: কয়েকদিন ধরেই এ রোগটি নিয়ে জানার চেষ্টা করছি। আজকে আরও ভালোভাবে জানলাম।


০৬-০৯-২০১০
আব্দুল্লাহ-আল-নোমান বলেছেন: @মোঃ কাজল আলী, যদিও আপনি জানেন তবুও দিলাম:- http://www.somewhereinblog.net/blog/georgis05/29235621


০৬-০৯-২০১০
আমাদের রাজশাহী বলেছেন: সকলের মন্তব্যের উপর বিবেচনা করে পোষ্টটি স্টিকি করা হইল।


০৬-০৯-২০১০
রিফাত বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট। স্টিকি করার জন্য কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ...


০৮-০৯-২০১০
তাহান মুফারঋদ নাবিল বলেছেন: আতংকিত পোষ্ট।


০৮-০৯-২০১০
রাজশাহী আইটীর কর্মী বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম।


১৭-০১-২০১১
আলম বলেছেন: এনথ্রাক্স এ আর ভয় নাই।


২০-০১-২০১১
রোকন বলেছেন: ঠিক বলেছেন আলম ভাই


মন্তব্য করতে লগিন করুন।
  

সাম্প্রতিক মন্তব্য







ছবিঘরের নতুন ছবি