logo



আমার প্রিয় লেখা



আমার ছবিঘর



অনলাইনে আছেন

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর নতুন বন্ধু নাজমুল


আমাদের সাথে আছেন ৫৪ জন অতিথী
  

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর অনলাইন ডায়েরী

আপনাদের সকলের উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত এবং বরকত বর্ষিত হোক

ডায়েরী লিখছেন ৭ বছর ৮ মাস ২৪ দিন
মোট পোষ্ট ৬১টি, মন্তব্য করেছেন ১৫৪টি


ভালবাসা যেভাবে হারিয়ে যায়............

লিখেছেন : আবদুল্লাহ       তারিখ: ১৭-০৮-২০১০



গান শুনবে নাকি, গান । আমি হেসে উঠলাম, বললাম তুমি গান পার ? আমি পারি না পারি সেটা পরের কথা কিন্তু তুমি শুনবে কিনা সেটা বল । কিছুটা রেগে উঠল সে । আমি বললাম আহ রাগ করছ কেন ? কখনো শুনিনি তো তোমার কন্ঠে গান কিংবা কবিতা তাই জিজ্ঞাসা করলাম । ঠিক আছে তোমার শুনতে হবে না কোন কিছু না বলেই ফোনটা কেটে দিল সে । আমি হতবাক বা রাগান্বিত কোনটাই হলাম না । আমি জানি আর একটু পর রাগ এমনিতেই কমে যাবে আর সে নিজেই ফোন দিয়ে বলবে আজ বন্ধুরা মিলে কি আড্ডা মেরেছে বা কিভাবে ক্যাম্পাসের ডাব চুরি করেছে । আমি হাসলাম আর অনুচ্চরিত কন্ঠে বললাম পাগল । জীবনটা এভাবে পার করে দিতে পারলে মন্দ হত না ভাবলাম আমি । ভার্সিটি, আড্ডা, কথা বলা ঘুরতে যাওয়া সবকিছুতেই অন্যরকম মজা । কিন্তু সে আর ফোন দিচ্ছে না কেন, এত দেরি করেনা তো কখনো । ভাবলাম হয়ত ঘুমিয়ে পড়েছে, রাত তো কম হল না । আমিও ঘুমিয়ে পড়ি ভাবলাম, সকালে আবার ক্লাস আছে ।

কাল রাতে যে আর ফোন দিলে না, ঘুমিয়ে পড়েছিলে নাকি । ফোন কি একা আমার দেওয়ার দায়ীত্ব কিছুটা ঝেঝিয়ে উঠল সে । আমি বিস্মিত চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম, এভাবে তাকে কোনদিন দেখিনি । কি ব্যাপার কথায় কথায় রেগে যাচ্ছ ইদানিং কোন সমস্যা । আমাকে রেগে যেতে দেখলে কোথায়, কুঞ্চিত ভ্রু নিয়ে বলল সে । মনটা খারাপ হয়ে গেল, কেমন যেন পরিবর্তন চোখে পড়ল । বুঝলাম সে আমার মন খারাপটা ধরতে পারে নাই, যে কিনা আমার মন ভাল রাখার জন্য কত কিছু করত । আরো বিষন্ন ভাবে বললাম বিকালে কি ফ্রি আছ, চল ঘুরে আসি । বিকালে আমার এক যায়গায় যেতে হবে, কিছুটা নরম সুরে বলল সে । বললাম কোথায় ? নিয়ে চল না আমাকে । তোমাকে নিয়ে যাওয়া যাবে না, অন্য একদিন অন্য কোথাও নিয়ে যাব বলল সে । আমি খুশি হয়ে উঠলাম তার পুরোনো রুপে দেখে । অথচ সেই আমাকে আগে কতবার বললত চলনা ঘুরে আসি, সে কথা একবারো মনে পড়ল না আমার । আমি বরং খুশি ছিলাম তার চোখ থেকে বিরক্তিবোধ উঠে যাওয়ায় । সে আমার হাতদুটি ধরে বসে ছিল, আর আমি তৃপ্তি নিয়ে তার ঘাড়ে মাথাদিয়ে বসে বসে সুন্দর ভবিষ্যৎ আকঁছিলাম । আমরা কথা বলছিলাম আমাদের বর্তমান, ভবিষ্যত আর অতীত নিয়ে । আহা জীবনটা কত মধুর ভাবলাম আমি । এভাবে যদি জীবনটা পার হয়ে যেত, তাহলে আমার কোন আফসোস থাকবেনা । আমার চিন্তার রেখা ভেঙ্গে সে বলল তাকে যেতে হবে তার এক বন্ধুর ফোন এসেছে । আমি বললাম ঠিক আছে যাও, ফোন দিও ফ্রি হয়ে । আমার কপালে চুমুর রেখা একে দিয়ে বিদায় নিল সে । আমি অবাক হয়ে তার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইলাম । আহ কত ভাল এবং সুদর্শন মানুষ ভাবলাম আমি আর ধন্যবাদ দিলাম সৃষ্টিকর্তাকে তার জন্য ।
কি ব্যাপার সন্ধায় ফোন দিলাম ধরলে না যে বললাম আমি । সে বলল খুবই ব্যস্ত ছিলাম তায় ধরা হয়ে উঠে নাই । কিছুটা অনুযোগের স্বরে বললাম, ফোনটা ধরে বললেই পারতে । আসলে ধরার মত পরিস্থিতি ছিল না বলল সে । কিছুক্ষন কথা বলেই যেন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ল, বলল তার ঘুমাতে হবে আজ অনেক পরিশ্রম গেছে তার উপর দিয়ে । কিছুটা মনক্ষুন্ন হলেও তার স্যস্থের কথা চিন্তা করেই বিদায় বললাম আমি । অতীতের কথা মনে পড়ল আর কষ্ট লাগল, আহ সেইসব দিনগুলি । কত বর্নময় ছিল জীবন । ইদানিং তার উপেক্ষা কষ্ট দিচ্ছিল খুব, তবু আমি চিন্তা করতে ভালবাসছিলাম যে সে আসলেই ক্লান্ত । তার ক্লান্তি যেন আমার উপরেও এসে ভর করল । ঘুমিয়ে পড়লাম অনেক তাড়াতাড়ি, আর অনেকদিন পর একটা দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠলাম । কিছুটা ধাতস্ত হয়ে চিন্তা করলাম স্বপ্ন তো স্বপ্নই, তবু মনে আশঙ্কা নিয়ে আবার ঘুমাতে গেলাম ।

আজ তাকে ক্যম্পাসে কোথাও দেখছিনা কেন, মনে বার বার স্বপ্নটা ফিরে আসছিল ।
স্বপ্নটা সরিয়ে রেখে ফোন দিলাম তাকে, কোথায় তুমি ? এইত বাইরে আছি, আসতে একটু দেরি হবে বলল সে । বললাম ক্লাস করবে না ? জরুরি কাজে আটকা পড়েছে জানাল সে, সাথে এও জানাল এসে সবকিছু বলবে । সারাদিনের অপেক্ষা শুধুই যন্ত্রনা, আক্ষেপ এবং শেষ বিকালে গ্লানিতে এসে পৌছাল । তার ফোন বন্ধ ছিল, হতাশা নিয়ে যখন ফিরছিলাম তখন প্রায় সন্ধ্যা । মোড় ঘুরতেই দেখলাম সে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকজনের সাথে, অভিমানে গলা রুদ্ধ হয়ে আসল আমার । সেও আমাকে দেখল এবং হাত থেকে জ্বলন্ত কিছু লুকানোর চেষ্টা করল, তবু আমি বুঝতে পারলাম জিনিষটা কি । না আমি সেখানে দাঁড়ায়নি আর একদন্ড, কারন বুঝতে পেরেছিলাম সেও আমাকে আশা করেনি সেখানে, ভাবতে পারেনি আমি তারজন্য এতক্ষন অপেক্ষা করব ।
প্লিজ ক্ষমা করে দাও আমাকে, বলল সে । আমি তার ফোন ধরতে চায়নি তবু পারিনি শেষ পর্যন্ত, তার কয়েকবার চেষ্টার পরই আমি রিসিভ করেছি তার ফোন । তারপর থেকেই সে ক্ষমা চেয়ে যাচ্ছে, আমি হয়ত ক্ষমা করে দিয়েছি তাকে অনেক আগেই তবুও মনের দুঃখবোধ কমেনি এতটুকুও ।তারপর থেকে আমাদের দুরত্ব শুধুই বেড়েছে, আমার আর স্বপ্ন দেখা হয়নি তাকে নিয়ে । বার বার ফিরিয়ে দিয়েছে আমাকে, একসাথে আর ঘোরা হয়নি প্রিয় স্থান গুলোতে । ভালবাসি তোমায়, ভালবেসে যাব, শুধু ক্ষমা করে দিও আমায়, আর হ্যা ভুলে যেও আমাদের অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ । তার কাছ থেকে মেসেজ পেয়েছিলাম, হয়ত শেষ মেসেজ কারন তারপর থেকে কোন মেসেজ কিংবা ফোনের প্রতিউত্তর আসেনি । তাকে আর দেখিনি আমাদের ক্যাম্পাসের প্রিয় বকুল তলে । তবে আমি বসে থেকেছি ঘন্টার পর ঘন্টা । তার প্রিয় কবিতা গুলো বার বার আবৃত্তি করেছি আপন মনে । জানি কেউ শোনেনি, শুনতেও চায়নি তবু ভালবাসার স্মৃতি রোমান্থন করেছি সম্পুর্ন একা । তার প্রতি আমার কোন ঘৃণা নেই, নেই কোন রাগ বা অভিসম্পাত । তাকে ভালবেসেছিলাম, হয়ত ভালবেসে যাব একাকী সারাটি জ়ীবন । আমার ঘৃণারা শুধু ঘুরে ফেরে সেইসব জিনিষের প্রতি যার জন্য আমি হারিয়েছি আমার ভালবাসা, স্বপ্ন কিংবা অতীত বর্তমান ভবিষ্যত ।

৪৩৩২ বার পঠিত

 
১৭-০৮-২০১০
আব্দুল্লাহ-আল-নোমান বলেছেন: সুন্দর লেখা।


মন্তব্য করতে লগিন করুন।
  

সাম্প্রতিক মন্তব্য







ছবিঘরের নতুন ছবি