logo



আমার লেখালেখি



আমার প্রিয় লেখা



আমার ছবিঘর



অনলাইনে আছেন

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর নতুন বন্ধু নাজমুল


আমাদের সাথে আছেন ৫৫ জন অতিথী
  

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর অনলাইন ডায়েরী

আপনাদের সকলের উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত এবং বরকত বর্ষিত হোক

ডায়েরী লিখছেন ৭ বছর ৮ মাস ২৪ দিন
মোট পোষ্ট ৬১টি, মন্তব্য করেছেন ১৫৪টি


৭০ লাখ টাকার ট্রফি রাজশাহীর

লিখেছেন : আব্দুল্লাহ-আল-নোমান       তারিখ: ২২-০৪-২০১০



উত্সবের প্রস্তুতিটা খুলনারই ছিল বেশি। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে পারফরমেন্সের রংয়ে রাজশাহীকেই বেশি রঙিন দেখাল। ফাইনাল শেষের উত্সবে ভাসল রাজশাহীই। এনসিএলের অভিষেক আসরেই রাজশাহী রেঞ্জার্স চ্যাম্পিয়ন! ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ট্রফি জিতে নিলো তারা। ৪ উইকেট
হারিয়ে খুলনার ১৬১ রানকে পেছনে ফেলে ৬ উইকেটে ফাইনাল জিতে নেয় রাজশাহী।
জয়ের নায়ক রাজশাহীর দুই ব্যাটসম্যান— শুভগত হোম ও পাকিস্তানি রিক্রুট কায়সার আব্বাস।
দুজনেই হাফসেঞ্চুরি পেলেন। চতুর্থ উইকেট
জুটিতে এ দুজনের ১০৯ রান রাজশাহীর জয়টা সহজ করে দেয়।
টুর্নামেন্টে একসঙ্গে অনেক নতুন ঘটনা ঘটল কালকের ফাইনালে। এত বেশি রান তাড়া করে এই প্রথম টুর্নামেন্টে কোনো দল জিতল। এই প্রথম টুর্নামেন্টে যে কোনো উইকেটে সেঞ্চুরির জুটি হলো। এই প্রথম কোনো দলের দুই ব্যাটসম্যান এক ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি পেলেন।
ট্রফির জন্য ১৬২ রান তাড়া করতে নামা রাজশাহী রেঞ্জার্স পাঁচ ওভারের মধ্যেই ৪৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে। রাজ্জাক তার প্রথম ওভারেই জুনায়েদ সিদ্দিকী ও হান্নান সরকারকে ফিরিয়ে দিলে খুলনার সমর্থকদের উল্লাসে গ্যালারি ফেটে পড়ে। কিন্তু খুলনার সেই সুখ কেড়ে নেন শুভগত হোম ও কায়সার আব্বাস। নিরাপদ স্টাইলে ব্যাট চালিয়ে বল ও রানের নিখুঁত অঙ্ক কষে দুজনে রাজশাহীকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। ৩৮ বলে টুর্নামেন্টের নিজের দ্বিতীয় দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি পাওয়া শুভগত হোম ম্যাচের ১৯ নম্বর ওভারে ইলিয়াস সানীর দুর্দান্ত ক্যাচে যখন ফেরেন তখন স্কোরবোর্ডে রাজশাহীর রান ১৫৫। শেষ ওভারে জয়ের জন্য রাজশাহীর প্রয়োজন দাঁড়ায় ৭ রানের। ডলার মাহমুদের করা সেই ওভারের প্রথম বলেই ফিল্ডিং মিস করে ইলিয়াস সানী ৪ রান উপহার দেন রাজশাহীকে। পরের বলেই কায়সার আব্বাস নিজের নবম বাউন্ডারিতে রাজশাহীকে ট্রফি এনে দেন। রাজশাহীর পুরো ড্রেসিংরুম তখন মাঠে ঢুকে নাচানাচি করছে। আর খুলনার ড্রেসিংরুমে রাজ্যের নীরবতা।
ক্ষুদ্র সঞ্চয় আনে সমৃদ্ধি—স্লোগানটা ছিল কোনো একটা বাণিজ্যিক ব্যাংকের। কালকের ফাইনালে সেই স্লোগানটা অনূদিত হলো কিংস অব খুলনার ইনিংসে। শুরুর দিকের পাঁচ ব্যাটসম্যানের সবার ছোট ছোট জোগাড় এবং শেষ ওভারে আলাউদ্দিন বাবুর ঝড়ো ব্যাটিং খুলনার স্কোরবোর্ডে ১৬১ রান এনে দেয়।
মিরপুরের চিরায়িত স্লো এবং লো-বাউন্সের উইকেটে এই রানকে নিরাপদ ভাবার যথেষ্ট কারণ ছিল। কারণ রাজশাহীর দুর্দান্ত ব্যাটিং পেছনের সব হিসাব ভুল প্রমাণ করে ফাইনালের এই বড় স্কোরও ঠিক টপকে যায়। তবে কাল ফাইনাল যে উইকেটে খেলা হলো সেটা এই টুর্নামেন্টে টি-টুয়েন্টির জন্য আদর্শ উইকেটের মর্যাদা পাচ্ছে।
ফাইনালের প্রিভিউতে মিরপুরের প্রধান কিউরেটর বদিউল আলম খোকন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ‘টি-টুয়েন্টি আসলে ব্যাটসম্যানদের খেলা। এখানে দর্শক চার-ছয় দেখতে আসেন। লাগাতার উইকেট পতন নয়। তো চেষ্টা থাকবে ফাইনালের উইকেট ব্যাটসম্যানদের উপযোগী করতে।’
প্রতিশ্রুতিটা রাখতে পেরেছেন বদিউল।
ম্যাচের সেরা একাদশ সাজাতে গিয়ে খুলনা বেশ চমকে দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ক্রিকেটার অ্যালভিরো পিটারসেন ও রায়ান বেইলিকে দলে ভেড়ায়। আগেরদিন দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের হয়ে ঢাকা সফরে আসা এই দুই ক্রিকেটারের জন্য ‘উপরি রোজগারের’ ব্যবস্থা করে দেয় কিংস অব খুলনা। দেশের হয়ে সফর শুরু করার আগেই ‘ক্ষ্যাপ’ খেলতে নেমে যান এই দুই দক্ষিণ আফ্রিকান! টি-টুয়েন্টিতে দুজনের ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ। স্ট্রাইকরেট একশর ওপরে।
ফাইনালে পিটারসেনের ব্যাট থেকেই সবচেয়ে বেশি রান পায় খুলনা। ২২ বলে ২ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৩৪ রান করেন ডানহাতি এই ওপেনার। খুলনার ওপেনিং জুটি ভাঙেন রাজশাহী রেঞ্জার্সের পাকিস্তানি কায়সার আব্বাস। ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারেই ইমরুল কায়েসকে ফিরিয়ে দেন কায়সার। ১৮ বলে ২০ রান করা মোহাম্মদ মিথুনের উইকেট পান এই পাকিস্তানি। রায়ান বেইলির ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ১৫ রান।
ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠা অ্যালভিরো পিটারসেনকে ফুলটস বলের লোভে ফেলে বিদায় করেন স্পিনার সানজামুল। তবে সেই আউটের বেশিরভাগ কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন ফিল্ডার শফিউল ইসলাম। লংঅন বাউন্ডারিতে আরও কয়েক পা বামদিকে সরে শফিউল বাতাসে পুরো শরীর ভাসিয়ে দুই হাতের তালুতে পিটারসেনের যে ক্যাচটা নেন সেটা নিঃসন্দেহে এই টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচের মর্যাদা পাচ্ছে। ক্যাচ তো নয়, যেন চিল পাখি ছোঁ মেরে শিকার ধরে আবার আকাশে পাখনা মেলে!
পুরো ফাইনালে উভয় দলের ব্যাটিং-বোলিংয়ের চেয়ে শফিউলের এই দুর্দান্ত ক্যাচটাই সবচেয়ে বেশি আলো ছড়াল।
ব্যাট হাতে কাল আরেকজন আলো ছড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—সাকিব আল হাসান। টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ সাকিবের ব্যাট কাল কথা বলতে শুরু করেছিল। মেরেকেটে খেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সাকিব কাল ব্যাট করতে নেমেই। শফিউলকে কাভারের ওপর দিয়ে হাঁকানো ম্যাচে তার দ্বিতীয় ছক্কাটা খোদ বোলারেরও হাততালি পায়! নাইমের বলে ম্যাচে নিজের ছক্কার সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে সাকিব লংঅনে ক্যাচ তুলে ফিরে আসেন। ১৫ বলে ২৭ রান—এই টুর্নামেন্টে সাকিবের সেরা স্কোর। আগের সর্বোচ্চ ছিল ১৮। সেটাও লীগ পর্যায়ে এই রাজশাহীর বিপক্ষেই!
মিডলঅর্ডারে ফরহাদ হোসেন ব্যর্থ হলে দলের স্কোরবোর্ড সামনে বাড়ানোর দায়িত্ব পান ডলার মাহমুদ ও আলাউদ্দিন বাবু। ৪ বাউন্ডারিতে ডলারের ব্যাট থেকে খুলনা পায় অপরাজিত ১৭ রান। তবে শেষ ওভারে ঝড় বইয়ে দেন আলাউদ্দিন বাবু। শফিউলের করা সেই ওভার থেকে খুলনা পায় ম্যাচের সর্বোচ্চ ২০ রান। এর মধ্যে দুই ছক্কা
এক বাউন্ডারিতে আলাউদ্দিন বাবুর জোগাড়ই
১৯! ৬ উইকেটে হারা ফাইনালে আগে ব্যাট করতে নামা খুলনার যে এমন আরও অনেক ওভারের প্রয়োজন ছিল।
পুরো টুর্নামেন্টে মিরপুরের এই উইকেটে ব্যাটসম্যানদের রান করাটা কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল অথচ কালকের ফাইনালের উইকেট হঠাত্ যেন ‘ব্যাটসম্যানদের বন্ধু’ হয়ে যায়!
ফাইনালের স্কোরকার্ডই সেই প্রমাণটা দিচ্ছে।
খুলনা ৬ উইকেটে ১৬১। আর রাজশাহী ৪ উইকেটে টপকে গেল সেই টার্গেট। ৩৯.২ ওভারে মোট রান ৩২৪। উইকেট পড়ল ১০টি। ফাইনাল তো ব্যাটসম্যানদেরই হয়ে রইল। মিরপুরের প্রধান পিচ কিউরেটর বদিউল আলম খোকন টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে এসে ধন্যবাদ পাচ্ছেন!

স্কোর কার্ড

কিংস অব খুলনা
রান (বল) ৪ ৬
ইমরুল ক নাইম ব কায়সার ২৪ (২৭) ৩ ০
অ্যালভিরো ক শফিউল ব সানজামুল ৩৪ (২২) ২ ২
মিথুন এলবি ব কায়সার ২০ (১৮) ১ ১
বেইলি ক শুভগত ব মুক্তার ১৫ (১৫) ১ ০
সাকিব ক হান্নান ব নাইম ২৭ (১৫) ১ ২
ফরহাদ ক মাসুদ ব মুক্তার ২ (৪) ০ ০
ডলার অপরাজিত ১৭ (১৩) ৪
আলাউদ্দিন অপরাজিত ২০ (৬) ১ ২
অতিরিক্ত ২
মোাট (২০ ওভারে, ৬ উইকেটে) ১৬১
উইকেট পতন : ১/৪০, ২/৭৩, ৩/৮৩, ৪/১০৬,৫/১২২, ৬/১৩৪,
বোলিং : সোরওয়ার্দি শুভ৩-০-১৪-০, নাইম ৩-০২১-১,সানজামুল ৪-০৩২-১, কায়সার ৪-০-২৪-২ , শফিউল ৪-০-৪৪-০, মুক্তার ২-০-২০-২।
রাজশাহী রেঞ্জার্স
রান (বল) ৪ ৬
ব্লিজার্ড ক মিথুন ব সাকিব ১৫(৯) ৩ ০
জুনায়েদ ক ইলিয়াস ব রাজ্জাক ১৮ (১১) ৩ ০
শুভগত হোম ক এন্ড ব ইলিয়াস ৬২ (৪১) ৪ ২
হান্নান এলবি ব রাজ্জাক ৪ (৩) ০ ০
কায়সার অপরাজিত ৬১ (৪৪) ৯ ১
নাইম অপরাজিত ০ (০) ০ ০
অতিরিক্ত ৩
মোট (১৯.২ ওভারে ৪ উইকেটে ) ১৬৩
উইকেট পতন : ১/৩৩, ২/৪২, ৩/৪৬, ৪/১৫৫
বোলিং : ফরহাদ ২-০-১৬-০, তুষার ১-০৭-০, সাকিব ৪-০-২৮-১, রাজ্জাক ৪-০-২১-২, ইলিয়াস ৪-০-২৪-১, আলাউদ্দিন বাবু ৩-০-৩৮-০, ডলার ১.২-০-১৭-০)।
ফল : রাজশাহী ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : কায়সার আব্বাস।
ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট : মাশরাফি।
ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার অব টুর্নামেন্ট : ইমরুল কায়েস।
সর্বোচ্চ উইকেট : মুক্তার আলী (১২ উইকেট)।

২৮১৮ বার পঠিত

 
২৭-০৪-২০১০
আবু জাফর মো: শামসুদ্দিন বলেছেন: অবহেলিত এক জনপদের নাম রাজশাহী । সারা জীবনিই অবহেলার পাত্র, যেন মা-বাবা হীন এতিম বালক । আমি এক জন রাজশাহী বাসি হয়ে তা ভাল ভাবে অনুভব করি । তবে এরকম কিছু সংবাদ সুনলে আনন্দ পাই ।


মন্তব্য করতে লগিন করুন।
  

সাম্প্রতিক মন্তব্য







ছবিঘরের নতুন ছবি