logo



আমার লেখালেখি



আমার প্রিয় লেখা



আমার ছবিঘর



অনলাইনে আছেন

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর নতুন বন্ধু নাজমুল


আমাদের সাথে আছেন ৫৫ জন অতিথী
  

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর অনলাইন ডায়েরী

আপনাদের সকলের উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত এবং বরকত বর্ষিত হোক

ডায়েরী লিখছেন ৭ বছর ৮ মাস ২৪ দিন
মোট পোষ্ট ৬১টি, মন্তব্য করেছেন ১৫৪টি


পতঙ্গ গোয়েন্দা দেবে নানা তথ্য

লিখেছেন : আব্দুল্লাহ-আল-নোমান       তারিখ: ১৩-০৪-২০১০



ক্ষুদ্র রোবটেরা এমনিতেই ভালো গোয়েন্দা হয়। অর্থাত্ গোয়েন্দাগিরির কাজে তাদের খুব ভালোভাবেই ব্যবহার করা যায়। এরই মধ্যে এ কাজে যথেষ্ট সাফল্য ধরা দিয়েছে। গবেষকরা এখন ভাবছেন, ক্ষুদ্র রোবটের চেয়ে ক্ষুদ্র পতঙ্গ তৈরি করার কথা, যা ওই ক্ষুদ্র রোবটের চেয়েও ভালো কাজ করবে। একে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাইবর্গ বা সাইবাগস। জীবন্ত পতঙ্গের মধ্যে যন্ত্র বসিয়ে তার চলার পথ নিয়ন্ত্রণ করার কাজে এরই মধ্যে সাফল্য পাওয়া গেছে।
সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দাদের কাছে ক্ষুদ্রযন্ত্র এমনিতে খুবই প্রিয়। কারণ ওই ক্ষুদ্রযন্ত্রে সজ্জিত ক্যামেরাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম তাদের সামনে হাজির করতে পারে শত্রুর অবস্থানসহ নানা জরুরি তথ্য। এমন স্থান থেকে তথ্য পাঠাতে পারে সে, যেখানে কোনো মানুষ গোয়েন্দার পক্ষে পৌঁছা সম্ভব নয়।
তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি হলো ক্ষুদ্র গোয়েন্দার বিদ্যুত্ সরবরাহের বিষয়টি। পাশাপাশি ভাবনা রয়েছে ওজন নিয়েও। রোবট পতঙ্গের ওজন অবশ্যই কম হতে হবে এবং দীর্ঘক্ষণ চলার মতো পাওয়ার বা বিদ্যুত্ সরবরাহ তাকে পেতে হবে। বিজ্ঞানীরা অবশ্য পতঙ্গের দৈহিক বা বায়োলজিক্যাল শক্তি ব্যবহার করে তার ওড়ার বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চাইছেন। এটি করা গেলে পতঙ্গের উড়ে চলার জন্য বাইরে থেকে শক্তি জোগান দেয়ার প্রয়োজন হবে না। ক্যামেরা সজ্জিত থাকবে ওই পতঙ্গ, তাই শত্রুর অবস্থানের ওপর দিয়ে যখন সে চলাফেরা করবে তখন তার ক্যামেরায় সব কিছুই ধরা পড়বে। শত্রুও বুঝে উঠতে পারবে না যে তাদের অজান্তে সব তথ্য জেনে যাচ্ছে তাদের শত্রুরা।
বিজ্ঞানীরা পুরো পতঙ্গটিকে রোবটে পরিণত করতে চাইছেন না। বরং তারা চান, পতঙ্গটি অর্ধেক থাকুক যন্ত্র, বাকি অর্ধেক পতঙ্গ। এর ফলে পতঙ্গের বায়োলজিক্যাল শক্তিকেও কাজে লাগানো সম্ভব হবে। প্রচলিত নিয়মে পতঙ্গের পিঠে বেঁধে দেয়া হয় নানা ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতি। তখন সে চলার পথের সব দৃশ্য তুলে আনে। কিন্তু এ পদ্ধতি সব সময় ভালো কাজ দেয় না। তাই অগ্রসর পরিকল্পনা হিসেবে পতঙ্গের দেহের ভেতরে মাইক্রোচিপ বসিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে বাইরে থেকে পতঙ্গটি দেখে বোঝার উপায় থাকবে না যে, সেটি সত্যি পতঙ্গ, নাকি সাইবাগস। যে কর্মসূচির আওতায় ওই মাইক্রোচিপ বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেটি হলো হাইব্রিড ইনসেক্ট মাইক্রো ইলেকট্রো ম্যাকানিক্যাল সিস্টেম (হাই মেমস)। এটি ব্যয়বহুল। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্ষুদ্র রোবট তৈরিতে যে ব্যয় হয় তার তুলনায় এ ব্যয় অবশ্যই কম। হাই-মেমস প্রকল্পে অর্থ যোগান দিচ্ছে ইউএস ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি (ডিএআরপিএ)। ২০০৬ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পে তারা ইতিমধ্যে এক কোটি ২০ লাখ ডলার দিয়েছে। ডিএআরপিএর একজন মুখপাত্র বলেছেন, গবেষকরা এরই মধ্যে সাফল্যের সঙ্গে পতঙ্গের মধ্যে মেমস সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এ সিস্টেম জীবিত পতঙ্গের ভেতরে ভালোভাবেই কাজ করছে। গবেষকরা দেখিয়েছেন ওই রোবট পতঙ্গরা নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করতে পারছে এবং বিপদের সময় সেখান থেকে দ্রুত কেটে পড়তে পারছে। ব্যাটারির মাধ্যমে বিদ্যুত্ সরবরাহের পরিবর্তে পতঙ্গের দেহের উত্তাপ এবং বায়োলজিক্যাল কর্মতত্পরতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই পতঙ্গরা নিজেরাই বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারছে।
গবেষকরা যখন পতঙ্গকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবে তখন এটিকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং অন্যান্য সেন্সর সজ্জিত করে গোয়েন্দাগিরির কাজে ব্যবহার করা হবে। এরই মধ্যে প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ৩০০ ফুট দূরের একটি লক্ষ্যমাত্রায় ১৫ ফুট ওপর দিয়ে সেই পতঙ্গকে পাঠিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালনা করা গেছে। তবে চূড়ান্তভাবে ওই রোবট পতঙ্গ তৈরি করার আগে আরও গবেষণা করতে হবে। জীবিত পতঙ্গের মধ্যে যন্ত্র সজ্জিত করে একে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা সহজ কাজ নয়। আশার কথা, এটা যে সাফল্যের পথে বহুদূর এগিয়ে যাওয়া গেছে। গোয়েন্দা তথ্য যখন পতঙ্গের মাধ্যমে পাওয়া যাবে তখন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ আর মানুষকে করতে হবে না। তাই জীবনহানি কমে যাবে। অভিযানে সাফল্যও তখন অনিবার্য হয়ে পড়বে।

৩১২৬ বার পঠিত

 
মন্তব্য করতে লগিন করুন।
  

সাম্প্রতিক মন্তব্য







ছবিঘরের নতুন ছবি