logo



আমার লেখালেখি



আমার প্রিয় লেখা



আমার ছবিঘর



অনলাইনে আছেন

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর নতুন বন্ধু নাজমুল


আমাদের সাথে আছেন ১১ জন অতিথী
  

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর অনলাইন ডায়েরী

আপনাদের সকলের উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত এবং বরকত বর্ষিত হোক

ডায়েরী লিখছেন ৭ বছর ৬ মাস ২৫ দিন
মোট পোষ্ট ৬১টি, মন্তব্য করেছেন ১৫৪টি


নিষেধাজ্ঞার পর কৌশলে এগোচ্ছে ডেসটিনি

লিখেছেন : আব্দুল্লাহ-আল-নোমান       তারিখ: ১৭-০৩-২০১০



নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর বান্দরবান সদর উপজেলার বালাঘাটা, চেমী ডলু, রাজবিলা ও লামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বনায়ন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ডেসটিনি গ্রুপ। অন্য এলাকাগুলোতেও তারা একই ধরনের কৌশল নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে ইতিমধ্যেই বহু জমিতে ডেসটিনির অবৈধ বনায়ন সম্পন্ন হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

গ্রাসে ৫ হাজার একর জমি' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বান্দরবানে ডেসটিনির সব ট্রি পল্গান্টেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য প্রশাসন থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ডেসটিনি কর্তৃপক্ষ যাতে কোনোভাবেই বাগান করার অবৈধ কার্যক্রম চালাতে না পারে এবং অন্যের জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ না করতে পারে সে ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলা হয় এ নির্দেশ লঙ্ঘন করা হলে সংশিল্গষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ডেসটিনিসহ যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অন্যের জমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও বাগান সৃজনের কাজ করা থেকে বিরত থাকার জন্য লামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে বলে লামার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ নুরুজ্জামান শুক্রবার সমকালকে জানিয়েছেন। ডেসটিনি বান্দরবানের যে ৪ উপজেলায় ট্রি পল্গান্টেশনের কাজ করছে সেখানে যাতে তারা এ নির্দেশের পর বনায়ন করতে না পারে সে জন্য সংশিল্গষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, মৌজা প্রধান (হেডম্যান) ও পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশের পর ডেসটিনির বনায়নের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।

ডেসটিনি ৪৭০০ একর জমিতে এই অবৈধ বনায়ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তারা ইজারাদারদের সঙ্গে অবৈধ চুক্তি ও স্থানীয়দের জমি দখলে নিয়ে এ কার্যক্রম চালাচ্ছিল।

জানা গেছে, বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও সদর উপজেলায় ডেসটিনি কর্তৃপক্ষ অন্যের জমি অবৈধ দখল ও অন্যের নামে ইজারাকৃত জমি বেআইনিভাবে দখলে নিয়ে সেখানে গত বছর থেকে ট্রি পল্গান্টেশন করে আসছিল। তাদের এই অবৈধ কার্যক্রমের ব্যাপারে আদিবাসীরা প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। লামা উপজেলার ইয়াংছা মৌজার ডেবিট ত্রিপুরা, নয়ারাম ত্রিপুরা ও থাইনু ত্রিপুরাসহ ৯৩ আদিবাসী পরিবার পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করে যে, তাদের জমি অবৈধভাবে দখল ও তাদের উচ্ছেদ করে ডেসটিনি কর্তৃপক্ষ ট্রি পল্গান্টেশনের নামে জমি হাতিয়ে নিয়েছে।

আদিবাসীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৪ আগস্ট পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা-এর নেতৃত্বে পরিষদ সদস্য ও নির্বাহী কর্মকর্তা, লামা উপজেলা চেয়ারম্যান ও লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কাঁঠালছড়ায় সরেজমিন গিয়ে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পায়। এ সময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অবৈধভাবে বনায়ন করা বন্ধ ও সংশিল্গষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। পুলিশ ডেসটিনি ট্রি পল্গান্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক (এজিএম) মজিবুর রহমান ও মাঝি (শ্রমিক সর্দার) স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল কবির প্রকাশ মনু মেম্বারকে আটক করে। পরে এজিএমকে ছেড়ে দেওয়া হলেও স্থানীয় আদিবাসীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মনু মেম্বারকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এদিকে ডেসটিনি কর্তৃপক্ষের অবৈধভাবে জমি দখল, আদিবাসীদের উচ্ছেদ ও নিয়মবহির্ভূতভাবে বান্দরবানের ৪ উপজেলায় ট্রি পল্গান্টেশনের ওপর সমকালে গত মঙ্গলবার রিপোর্ট প্রকাশের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয় এবং ডেসটিনির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ নুরুজ্জামান শুক্রবার সমকালকে জানিয়েছেন, ডেসটিনি কর্তৃপক্ষ লামা উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় অবৈধভাবে জমি দখল ও ট্রি পল্গান্টেশন করায় তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউএনও আরও জানিয়েছেন, ইয়াংছার ৯৩ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নুরুল আবছার ওই মৌজার ৯৩ পরিবারের জমির এলাকায় ডেসটিনির প্রবেশ, সব কার্যক্রম ও ট্রি পল্গান্টেশন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে ইউএনও পুরো উপজেলায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তিনি জানান, পুরো উপজেলায় যাতে কেউ অবৈধভাবে জমি দখল ও গাছ লাগানোসহ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ রাখে সেজন্য বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। সংশিল্গষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার, মৌজা প্রধান (হেডম্যান), পাড়াপ্রধান (কারবারি) এবং পুলিশকে এ নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি-না তা তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লামা থানার ওসি মোহাম্মদ হোসেন সমকালকে বলেন, ডেসটিনির অবৈধ বনায়নের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।

লামার ফাঁসিয়াখালীর সাবেক ইউপি মেম্বার মোঃ বাচ্চু মিয়া জানিয়েছেন, তাদের ইউনিয়নের গিলাতলী, সোনারঝিরি, কচুখোলা, দোছড়ি এলাকায় বর্তমানে ডেসটিনি বনায়ন কার্যক্রম বন্ধ রেখে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। এটি তাদের একটি কৌশল।

বান্দরবান সদর উপজেলার বালাঘাটা, চেমী ডলু, রাজবিলা এলাকায় ডেসটিনির যে বনায়ন কার্যক্রম চলছিল এ নিষেধাজ্ঞার ফলে সেখানে বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে বলে এলাকার বাসিন্দা পাইহ্লা অং মারমা জানিয়েছেন। তবে তাদের কঠোর পর্যবেক্ষণে না রাখলে যে কোনো সময় আবার বনায়ন শুরু করতে পারে বলে স্থানীয় অধিবাসীরা সন্দেহ প্রকাশ করেন।

নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও নওয়াব আসলাম হাবিব শুক্রবার সমকালকে জানান, তার উপজেলায় সব ধরনের জমি দখল ও জমিতে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেসটিনির ট্রি পল্গান্টেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে কি-না জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, নিষেধাজ্ঞা সবার জন্যই জারি করা হয়েছে। তবে ডেসটিনি কর্তৃপক্ষ এ নিষেধাজ্ঞ জারির আগেই গাছ লাগানো শেষ করায় বর্তমানে তাদের গাছ লাগানোর কার্যক্রম নেই। ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ১৪৪ ধারা নয়, জমির দখল, বনায়ন কিংবা অবৈধ যে কোনো কার্যক্রম বন্ধ রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য জেলার হর্টিকালচার ও রাবার বাগানের ইজারা নিয়ে যথাসময়ে ওইসব পল্গটে হর্টিকালচার ও রাবার বাগান সৃজন না করায় পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সুপারিশে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ২৬০টি পল্গটের ইজারা বাতিল করে।


৩১৮৮ বার পঠিত

 
১৮-০৩-২০১০
আলম বলেছেন: ডেসটিনি মুলত তরুন সমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাদেরকে লাখ লাখ টাকা ইনকামের স্বপ্ন দেখিয়ে নিজেরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
ডেসটিনি করে অল্প কিছু লোক সুবিধাভোগ করে, বাকি সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
এ ব্যপারে সবার সতকর্ হওয়া প্রয়োজন।


১৮-০৩-২০১০
আব্দুল্লাহ-আল-নোমান বলেছেন: আপনার সাথে আমি শত ভাগ একমত, ধন্যবাদ।


১৮-০৩-২০১০
মোঃ সাইদুর রহমান ( রেন্টু ) বলেছেন:
আমি গত বছর এর পাল্লায় পড়েও বেঁচে গেছি।



১৮-০৩-২০১০
আবু জাফর মো: শামসুদ্দিন বলেছেন: বেশি ভাল ভাল নয় । এটা ডেসটিনির বেলায় খুবই প্রযোজ্য ।


১৯-০৩-২০১০
আব্দুল্লাহ-আল-নোমান বলেছেন: নিষেধাজ্ঞার পর কৌশলে এগোচ্ছে ডেসটিনি


২৪-০৩-২০১০
আব্দুল্লাহ-আল-নোমান বলেছেন: ভালই বলেছেন রেন্টু ভাই


মন্তব্য করতে লগিন করুন।
  

সাম্প্রতিক মন্তব্য







ছবিঘরের নতুন ছবি