logo



আমার লেখালেখি



আমার প্রিয় লেখা



আমার ছবিঘর



অনলাইনে আছেন

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর নতুন বন্ধু নাজমুল


আমাদের সাথে আছেন ৫০ জন অতিথী
  

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর অনলাইন ডায়েরী

আপনাদের সকলের উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত এবং বরকত বর্ষিত হোক

ডায়েরী লিখছেন ৭ বছর ১০ মাস ২৬ দিন
মোট পোষ্ট ৬১টি, মন্তব্য করেছেন ১৫৪টি


ইসলাম ও তাবলীগ জামা'ত

লিখেছেন : আব্দুল্লাহ-আল-নোমান       তারিখ: ২৯-০৫-২০১১





বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আল্লাহর দ্বীনে বিশ্ব ইজতেমা হল হ্জ্জ্ব। হজ্জ্ব ছাড়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরূপ বিশ্ব ইজতেমা করেননি। "ভারতের উত্তর পশ্চিম সীমান্তে একটি রাজ্যের নাম হরিয়ানা, এর সাবেক নাম পাঞ্জাব। দিল্লীর দক্ষিণে হরিয়ানার একটি এলাকার নাম মেওয়াত। এই মেওয়াতে ১৩০৩ হিজরীতে এক হানাফী বুজুর্গের জন্ম হয়। তার ঐতিহাসিক নাম ছিল আখতার ইলিয়াস। কিন্তু পরে তিনি শুধু ইলিয়াস নামে পরিচিত হন। ১৩২৬ হিজরীতে তিনি দেওবন্দ মাদ্রাসার শাইখুল হাদীস মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেবের কাছে বুখারী ও তিরমিযী শ্রাবণ করেন। ১৩৪৪ হিজরীতে তিনি দ্বিতীয়বার হজ্জে যান। এই সময় মদীনায় থাকাকালীন অবস্থায় তিনি (গায়েবী) নির্দেশ পান, "আমি তোমার দ্বারা কাজ নিব"। ফলে ১৩৪৫ হিজরীতে তিনি দেশে ফিরে এসে মেওয়াতের একটি গ্রাম নওহে তাবলীগী কাজ শুরু করেন।

ইলিয়াস (রঃ) নবীজির রওজা শরীফ থেকে গায়েবী নির্দেশ পেয়েছিলেন বলে দাবী করেন। এটা ডাহা মিথ্যা কথা করাণ মহান আল্লাহ বলেনঃ
১। "আল্লাহ যেদিন রাসূলগণকে একত্রিত করবেন আর তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করবেনঃ তোমরা উত্তর পেয়েছিলে কি? তাঁরা বলবেন, আমরা তার কিছুই জানি না। আপনি অবশ্যই গায়েবের খবর ভাল জানেন।" (সূরা মায়েদা ৫ঃ৫৭)

২। "(নবী বলেন) আমি যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম, ততদিন আমিই তাদের খোঁজ খবর নিয়েছি। তারপর যখন আমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নিলেন তখন আপনি (আল্লাহ) তাদের খোঁজ খবর রেখেছেন। আপনি সবকিছুর খবর রাখেন।" (সূরা মায়েদা ৫ঃ১১৭)

৩। "প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাধ গ্রহণ করবে। তারপর সবাই আমার নিকট ফিরে আসবে।" (সূরা আনকাবুত-২৯ঃ৫৭)

মৃত্যুর পরে কোন নাবী -রাসূল (সাঃ) গণই এ পৃথিবীর কোন খবর রাখতে পারেন না। মৃত্যুর পরে কারো আত্মা কবরে থাকে না, আল্লাহর নিকট ফিরে যায়। ফিরে যাওয়া অর্থ হল পূর্বে যেখানে ছিলাম সেখানে যাওয়া। জন্মের পূর্বে আমরা আল্লাহর নিকট ছিলাম। কোথায় ছিলাম, কেমন ছিলাম, কি করতাম, এসব যেমন আমরা কিছু্ই জানি না, তদরূপ মৃত্যুর পরে যেখানে যাব সেখানে থেকে পৃথিবীর কোন কিছুই জানা যাবে না।

অতএব রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর ইন্তিকালের পরও রেসালতের দায়িত্ব পালন করতে থাকবেন বলে বিশ্বাস করি, তাহলে "আজ তোমাদের দ্বীনকে আমি পরিপূর্ণ করে দিলাম" আল্লাহর এ ঘোষনাটাকে অবিশ্বাস করতে হয়। (নাউযুবিল্লাহ মিন জালিক)
তাবলীগী জাম'আতের কার্যকলাপ সোয়াবের আশায় আল্লাহর দ্বীনে নতুন সংযোজন। দ্বীনের মধ্যে নতুন সংযোজন বিদ'আত। বিদ'আতীদের পরিণাম সম্পর্কে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতি বৎসর নিয়মিত ভাবে টঙ্গিতে বিশ্ব ইজতেমা পালন করা হয়। টঙ্গিতে যে বিশ্ব ইজতেমা চালু করা হল তার প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী ইলিয়াস, আর আরাফাতে যে বিশ্ব ইজতেমা চালু আছে তার প্রতিষ্ঠাতা হলেন আল্লাহ তা'আলা। ইজতেমার শেষ দিনে "আখেরী মুনাজাত" চালু আছে, যদিও আল্লাহর শরীয়তে আখেরী মুনাজাত বলতে কোন কিছু নেই। এই আখেরী মুনাজাতের অংশ নেয়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ, এমনকি অফিসের কর্ম-কর্তা, কর্মচারী অফিস ফাঁকি দিয়ে সরকারী গাড়ী ব্যবহার করে মাঠে উপস্থিত হন। এই মুনাজাতে শরীক হয়ে নিজেরা মুশরিক ও বিদ'আতী হলেন। টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমা আল্লাহ চালু করেননি এবং এতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সমর্থন নেই। এই ইজতেমায় অংশ গ্রহণ করলে আল্লাহর পরিবর্তে মাওলানা ইলিয়াসকেই মান্য করা হলো। আল্লাহকে ছাড়া আর কারো প্রবর্তিত প্রথা মানলেই সে মুশরিক। অফিসের কাজে ফাঁকি দেয়ায় রুজিটা আর হালাল থাকল না। হালাল রুজী না হলে কোন ইবাদতই আল্লাহ কবুল করেন না। লোকেরা বলতে থাকে, বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে দ্বিতীয় হজ্জ্ব, গরীবের হজ্জ্ব (নাউযুবিল্লাহ)! যদিও তবলিগী মুরব্বীগণ একথা স্বীকার করেন না। তবে মুরুব্বীদের জানা উচিৎ; এই বিদ'আতি অনুষ্ঠান চালু না করলে কিন্তু লোকদের এরূপ বলার কোন সুযোগই থাকত না।

এই আখেরী মুনাজাতে শারীক হবার জন্য নামাজী, বে-নামাজী, ঘুষখোর, সন্ত্রাসী, বিদ'আতী, দুস্কৃতিকারী দলে দলে ময়দানের দিকে ধাবিত হন। কেউ বা ট্রেনের ছাদে আর কেউ বা বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে ঝুলে। তারা মনে করেন সকল প্রাপ্তির সেই ময়দান বুঝি টঙ্গির তুরাগ নদীর পাড়ে! মানুষ পায়খানা সাফ করেও সেখানে সাওয়াব কামানোর আশায় থাকেন। এ যেন সওয়াবের ছড়া ছড়ি, যে যতো কুড়ায়ে থলে ভরতে পারবে তার ততোই লাভ। ট্রেনের ছাসের উপর মানুষের ঢল দেখে টিভিতে সাংবাদিক ভাইবোন গণ মাথা কাপড় দিয়ে বার বার বলবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আজ তাদের পাপের প্রাশ্চিত্ত করতে ছুটে চলেছেন তুরাগের পাড়ে। পরের দিনে বড় হেডিং দেখে যারা এবার যান নাই তারা মনে মনে ওয়াদা করে বসবেন যে আগামীতে যেতেই হবে। তা না হলে পাপীদের তালিকায় নাম থেকেই যাবে। এভাবে পঙ্গোপালের মতো এদের বাহীনি বাড়তে থাকবে। এদের আর রুখা যাবে না। কেননা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীগণও সেখানে গিয়ে আচঁল পেতে প্রার্থনা করেন। টিভিতে সরাসরি মুনাজাত সম্প্রসারণ করা হয়। রেডিও শুনে রাস্তার ট্রাফিকগণও হাত তুলে আমীন আমীন বলতে থাকে। এই দেখে রাস্তার রিক্সাওয়ালা এবং তার যাত্রীগণও বসে থাকতে পারেন না। হায়রে তামাশা!! কি সর্বনাশা বিদ'আত কুরে কুরে আমাদের গ্রাস করছে তা আমরা জানিও না!!

তাবলীগী জামা'আত দেইখ্যা উষ্ঠা খাইয়া পইড়েন না। নীচের হাদীসটি মিলিয়ে দেখবেন আশা করি।

সাহাবী আবূ সাইদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, আমার মৃত্যুর পর শেষ যামানায় আমার উম্মতের মধ্য হতে পূর্বের কোন দেশ থেকে একটি জামাআত তাবলীগ নামে বের হবে, তারা কুরআন পাঠ করবে, তাদের কুরআন পাঠ তোমাদের কুরআন পাঠের তুলনায় খুবই সুন্দর হবে। কুরআনের প্রতি বাহ্যত তাদের ভক্তি শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা দেখে মনে হবে যেন ওরা কুরআনের জন্য কুরআন ওদের জন্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ওরা কুরআনের প্রতিটি আয়াতের উপরে ঈমান রাখবে না এবং কুরআনের কঠিন নির্দেশের উপর আমল করবে না।

এই জামা'আতের অধিকাংশ লোক হবে অশিক্ষিত ও মূর্খ। যেমন কুরআন ও হাদীসের জ্ঞানে হবে মূর্খ তেমন সাধারণ জ্ঞানেও হবে মূর্খ। এই জামাআতে যদি কোন শিক্ষিত লোক যোগদান করে তাহলে তার আচরণ ও স্বভাব হয়ে যাবে জামাআতে যোগদানকারী অন্যান্য মূর্খের মত। মূর্খরা যেমন মূর্খতার আনুগত্য করবে তেমনি শিক্ষিত লোকটিও মূর্খদেরই আনুগত্য করবে। এই জামা'আতের বয়ান ও বক্তৃতায় থাকবে কেবল ফযিলাতের বয়ান। বিভিন্ন আমলে সর্বোচ্চ ফযিলাতের প্রমাণহীন বর্ণনাই হবে তাদের বয়ানের বিষয়বস্তু।

হে মুসলমানগণ ! ঐ জামা'আতের লোকদের নামায, রোযা অন্যান্য আমল এতই সুন্দর হবে যে, তোমরা তোমাদের নামায, রোযা ও আমল সমূহকে তাদের তুলনায় তুচ্ছ মনে করবে। এই জামা'আতের লোকেরা সাধারণ মানুষকে কুরআনের পথে তথা দ্বীনের পথে চলার নামে ডাকবে, কিন্তু তারা চলবে তাদের তৈরী করা পথে, ডাকলেও তারা কুরআনের পথে চলবে না।

তাদের ওয়াজ ও বয়ান হবে মধুর মত মিষ্টি, ব্যবহার হবে চিনির মত সুস্বাদু, তাদের ভাষা হবে সকল মিষ্টির চাইতে মিষ্টি। তাদের পোশাক পরিচ্ছদ ধারণ-ধরণ হবে খুবই আকর্ষণীয়, যেমন সুন্দর হরিণ তার হরিণির পিছনে যেমন ছুটতে থাকে তেমন সাধারণ মানুষ তাদের মিষ্ট ব্যবহার, আমলের প্রদর্শনী ও সুমধুর ওয়াজ শুনে তাদের জামা'আতের দিকে ছুটতে থাকবে।

তাদের অন্তর হবে ব্যাঘ্রের মত হিংস্র। বাঘের অন্তরে যেমন কোন পশুর চিৎকার মমতা প্রকাশ করে না, তেমন কুরআন ও হাদীসের বাণী যতই মধুর হোক তাদের অন্তরে প্রবেশ করবে না। তাদের কথাবার্তা আমল আচরণ, বয়ান যেগুলি তারা তাদের জন্য নির্ধারণ করে নিয়েছে, তার-ভিতরকার কুরআন সুন্নাহ বিরোধী আমলগুলি বর্জন করে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক আমল করার জন্য যতবার কেউ কুরআন ও সুন্নাহ প্রদর্শন করুক বাঘের অন্তরে যেমন মমতা প্রবেশ করে না তেমন তাদের অন্তরে কুরআন ও সুন্নার প্রবেশ করবে না।

তাদের জামা'আতে প্রবেশ করার পর তাদের মিষ্টি ব্যবহারে মানুষ হবে মুগ্ধ, কিন্তু ঐ মনোমুগ্ধ ব্যবহারের পেছনে জীবন ধ্বংসকারী, ঈমান বিনষ্টকারী, ইসলামী মুল্যবোধ বিনষ্টকারী মারাত্মক বিষ বিরাজমান থাকবে। তাদের প্রশিক্ষন ধীরে ধীরে মানুষের অন্তর হতে আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) এ আনুগত্যের প্রেরণা শেষ করে দেবে এবং জামা'আতের আমীরদের আনুগত্যের প্রতি মরণপণ আকৃষ্ট করবে। আমীরগণ দেখতে হবে খাঁটি পরহেজগার দ্বীনদার ব্যক্তিদের মত, কিন্তু তার অন্তর হবে শয়তানের মত, কুরআন সুন্নাহের প্রতি বিদ্রোহী। আমীরগণ যা করে যাচ্ছে তার মধ্যে কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন কাজ কখনো কেউ ধরিয়ে দিলে কোনক্রমেই তা পরিবর্তন করতে প্রস্তুত হবে না। অর্থাৎ কুরআন হাদীস উপস্থাপন করার পর তারা কুরআন হাদীস দেখেও কুরআন হাদীস বর্জন করে মুরব্বীদের কথা মানবে। কুরআন হাদীসের প্রতি তাদের অনীহা এতই তীব্র হবে যে, তারা অর্থসহ কুরআন হাদীস কখনই পড়বে না, পড়ানোও যাবে না।

এই জামা'আতটি ইসলামের তাবলীগ করার কথা যতই বলুক কুরআন যত সুন্দরই পাঠ করুক, নামা রোযা যতই সুন্দর হোক, আমল যতই চমৎকার হোক, মূলতঃ ঐ জামা'আতটি ইলসালম হতে বহির্ভূত হবে।

সাহাবাগণ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ঐ দলটি চিনবার সহজ উপায় কি হবে? আমাদিগকে জানিয়ে দিন।

রাসূল (সাঃ) বললেন, এই ইসলাম বহির্ভূত জামা'আতটি চিনবার সহজ উপায় হল-
১) তারা যখন তালীমে বসবে, গোল হয়ে বসবে।
২) অল্প সময়ের মধ্যে এই জামা'আতের লোকসংখ্যা খুব বেশী হবে।
৩) এই জামা'আতের আমীর ও মুরব্বীদের মাথা নেড়া হবে। তারা মাথা কামিয়ে ফেলবে।

তীর মারলে ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। ঐ তীর আর কখনও ধনুকের দিকে ফিরে আসে না, তেমন যারা এই জামা'আতে যোগদান করবে তারা কখনও আর দ্বীনের দিকে ফিরে আসবে না। অর্থাৎ এই জামা'আতকে দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য কুরআন হাদীস যত দেখানো হোক, যত চেষ্টাই করা হোক না কেন দলটি দ্বীনের পথে ফিরে আসবে না। এদের সাথে তোমাদের যেখানেই স্বাক্ষাত হোক, সংগ্রাম হবে তোমাদের অনিবার্য। এই সংগ্রাম যদি কখনও যুদ্ধে পরিণত হয় তাহলে তা থেকেও পিছ পা হবে না।

এই সংগ্রামে বা যুদ্ধে যারা মৃত্যুবরণ করবে, তাদেরকে যে পুরষ্কার আল্লাহ দান করবেন তা অন্য কোন নেক কাজে দান করবেন না।

(বুখারী, আরবী দিল্লীঃ ২য় খন্ড, পৃঃ ১০২৪, ১১২৮, মুয়াত্তা ইমামা মালেক, আরবী ১ম খন্ড, পৃঃ ১৩৮, আবূ দাউদ, আরবী দিল্লী, ২য় খন্ড, পৃঃ ৬৫৬, তিরমিযী, মিশকাত, আরবী, ২য় খন্ড, পৃঃ ৪৫৫, মুসলিম,মিশকাত, আরবী, ২য় খন্ড, পৃঃ ৪৬২)

হাদীস সমূহের বর্ণনাকারী হলেন আবূ সাঈদ খুদরী, আলী, আবূ হুরায়রা, আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ)। (দেখুন সহীহ আল বুখারী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৬৪৪৯, ৬৪৫০, ৬৪৫২, ৭০৪১ (আ.প্র.), বাংলা অনুবাদ মুয়াত্তা মালেকঃ ই.ফা. ১ম খন্ড, হাঃ নং- ৫৭৮)

বিশ্ব বরেণ্য আলিমগণের দৃষ্টিতে তাবলীগ জামা'আত ও তার নিসাব :

সম্মানিত মুসলিম ভ্রাতাগণ! আমি আপনাদের খেদমতে সামান্য একটু আলোচনা করব বিশ্বের সকল মুসলিমদের নিকট সমাদৃত আলিম উলামাদের মতামত, বিশেষ করে আরব বিশ্বের আলিমগণের অভিমত। কারন আমি কয়েকেটি বই পড়ে জানতে পারলাম যে, এতদিন ধরে আমরা যে সাওয়াবের আশায় তবলীগী কাজ করছি এবং পিপিলিকার স্রোতের মতো তুরাগনদীর পাড়ে জমায়েত হয়ে ফজিলতের বয়ান শুনে কান ঝালাপালা করে সমস্ত পাপ মুক্ত হয়ে যার যার ঘরে ফিরছি তা সম্পূর্ণই ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং বিদ'আতী কার্যকলাপ। দ্বীনের মধ্যে সওয়াবের আশায় নতুন কোন পন্থা আবিষ্কার করাই হল বিদা'আত। আরব বিশ্বের উলামায়ে কিরাম তাবলীগী জামা'আত ও তার নিসাবকে বাতিল বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারই প্রমান স্বরূপ বর্তমান শাতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কিছু আলিমের মতামত সংক্ষেপে তুলে ধরছি।

আল্লাহ পাক শারী'আতের বিভিন্ন বিষয়ে এ সমস্ত আলিমদের অভিমত গ্রহণ করার জন্য আল কোরআনে বলেন, "তোমরা জ্ঞানবানদের জিজ্ঞেসা কর, যদি তোমরা তা না জান।" (সূরা আম্বিয়া, ৭)

০১। শাইখ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল শাইখ (রহঃ)- সাবেক গ্রান্ড মুফতী, সৌদী আরব তাঁর রাজকীয় তথ্য মন্ত্রনালয়ের প্রধানকে লেখা পত্রে তাবলীগ জামা'আত সম্পর্কে বলেন,

আমি মহোদয়ের নিকট এ প্রতিবেদন পেশ করছি যে, এই জামা'আতের কোনই ফায়দা নেই, এটি একটি বিদ'আতী এবং গোমরা সংগঠন। তাদের নিসাব গ্রন্থ পড়ে দেখলাম, তাতে গোমরাহী এবং বিদ'আত ভরপুর। এতে কবর পূঁজা এবং শিরকের দিকে আহ্বান করা হয়েছে। বিষয়টি এমনই যে, এ ব্যাপারে চুপ থাকা যায় না। এজন্য অবশ্যই আল্লাহ চাহেন তো আমি এর প্রতিবাদ লিপি পাঠাব যেন এর বিভ্রান্তি ও বাতিল প্রকাশ হয়ে পড়ে। আল্লাহর নিকট দু'আ করি তিনি যেন, তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেন এবং কালিমাকে সুউচ্চে রাখেন- আমীন! তারিখঃ ২৯/০১/১৩৮২ হিঃ (তথ্য সূত্রঃ ফতওয়া ও চিঠিপত্র, শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আলে শাইখ, খন্ড ১ পৃঃ ২৬৭-২৬৮)

০২। শাইখ আবদুল আযীয বিন বায (রহঃ)'র নিকট তাবলীগ জামা'আত এর সঙ্গে চিল্লায় বের হওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেন, "আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। অতঃপর তাবলীগ জামা'আতের নিকট আক্বীদাহর ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ধারণা নেই। সুতরাং তাদের সাথে বের হওয়া উচিত নয়। একমাত্র যার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'তের আক্বীদা সম্পর্কে জ্ঞান ও স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে সে বের হতে পারে, এজন্য যে তাদেরকে সঠিক পথের দিশা দিতে এবং প্রয়োজনীয় নাসীহাত করতে পারে এবং তাদেরকে কল্যাণমূলক কাজে সহায়তা করতে পারে। কেননা, তারা তাদের কাজের ব্যাপারে খুবই তৎপর। কিন্তু তারা আরো অধিক জ্ঞানের মুখাপেক্ষী এবং আলিম-উলাময়ে কিরামের প্রতি মুখাপেক্ষী, যারা তাদেরকে তাওহীদ ও সুন্নাহর জ্ঞানে আলোকিত করবে। আল্লাহ তা'আলা সকলতে দ্বীনের জ্ঞান দান করুন এবং এর উপর সাবেত রাখুন। আমীন!

০৩। শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমীনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাবলীগ জামা'আত ও এর সাথে সংশ্রব রাখার ব্যাপারে এবং তাদের নির্দিষ্ট তরীকার যিকর ও ছয় উসূল সম্পর্কে। উত্তরে বলেন, "ইবাদাত হল 'তাওকিফী' অর্থাৎ শারীয়াত নির্ধারিত। এজন্য কোন মুসলিমই কোন ইবাদাত করতে পারবে না যা আল্লাহ ও তাঁরা রসূল (সাঃ) নির্দিষ্ট করেননি। কেননা আল্লাহ তা'আলা অস্বীকার করেছেন তাদেরকে যারা আল্লাহ তাঁর রসূল (সাঃ) ব্যতীত অন্য কারো তৈরী করা ইবাদাত করবে।

আল্লাহ পাক বলেন, "তাদের কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য রয়েছে, তাদের জন্য যারা বিধান তৈরী করছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? যদি চূড়ান্ত ফায়সালা না থাকত তবে তাদের মাঝে এখই দফারফা করে দেয়া হত।" (সূরা আশ-শুরা ২১)

ইবাদত হল তাওকিফী' তার ধরণ, পরিমাণ, গুণাবলী, সময় এবং স্থানের দিক দিয়ে। সুতরাং ইবাদত অবশ্যই শারী'আত মোতাবেক হতে হবে। প্রশ্নকারীরা যা উল্লেখ করেছে, এভাবে ক্রমাধারায় বিদ'আতী তরীকায় আল্লাহর যিকর ও তাদের ছয় উসূল দেখতে হবে যে, শারীয়াতের এভাবে সাব্যস্ত রয়েছে কি না? যদি রাসূল (সাঃ) থেকে এভাবে সাব্যস্ত হয়ে থাকে তাহলে মাথা পেতে নিতে হবে। আর যদি সাব্যস্ত না থাকে তাহলে যা রসূল (সাঃ) থেকে সাব্যস্ত রয়েছে তাই যথেষ্ট। আমি জানি না যে, রসূল (সাঃ) থেকে এভাবে যিকর তিলাওয়াত ও উসূল সাব্যস্ত রয়েছে কিনা। এজন্য আমার ভাইদের অনুরোধ করছি যারা এর সাথে জড়িত তারা যেন তা পরিত্যাগ করেন এবং রাসূল (সাঃ) থেকে প্রমাণিত ও সাব্যস্ত সে অনুযায়ী আমল করেন। সেটাই তাদের জন্য উত্তম এবং প্রতিফলও ভাল হবে।

০৪। শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ)'র নিকট প্রশ্ন করা হয়ঃ

তাবলীগ জামা'আত সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? এদের সাথে কোন তালিমে 'ইলম বা অন্য কেউ আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে বের হতে পারে কি?

উত্তরে তিনি বলেন, তাবলীগ জামা'আত আল্লাহর কুরআন এবং রসূলের হাদীসের তরীকার উপর প্রতিষ্ঠিত নয় এবং আমাদের সলফে সালিহীনদের পন্থার উপর নয়। অবস্থা যখন এই, তখন তাদের সাথে বের হওয়া জায়িয হবে না। কেননা এটা আমাদের সালফে সালিহীনদের তাবলীগের পন্থার পরিপন্থী। দা'ওয়াতের কাজে বের হবেন আলিম বা বিদ্বান ব্যক্তি। আর এরা যারা বের হচ্ছে তাদের উপর অবশ্য করণীয় হল নিজের দেশে জ্ঞান শিক্ষা করা, মাসজিদে মাসজিদে জ্ঞানার্জনের ব্যবস্থা করা, যারা দা'ওয়াতের কাজ করবে তারা যেন আলিম তৈরী হয়। এ অবস্থায় তালিবে ইলমদের উচিত যেন এদেরকে তাদের দেশেই কুরআন-হাদীস শিক্ষার জন্য আহ্বান জানায়। মানুষকে আল্লাহর পথে দা'ওয়াত তাবলীগীরা কুরআন ও সুন্নাহকে তাদের মূলনীতি হিসাবে গণ্য করে না। বরং তারা এই দা'ওয়াতকে বিভক্ত করে ফেলেছে। এরা যদিও মুখে বলে যে, তাদের দা'ওয়াত কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক তা নিছক মুখের কথা, এদের কোন একক আক্বীদা বিশ্বাস নেই যা তাদেরকে একত্রিত করতে পারে। এজন্যই দেখা যায়- এরা হল সূফী ও মাতুরিদী, আশায়িরীর আর এরা তো কোন মাযহাবেই নেই। আর এর করণ হল তাদের আক্বীদাহ-বিশ্বাস জটপাকানো। এদের নিকট স্বচ্ছ জ্ঞানের অভাব। এদের জামা'আত প্রতিষ্ঠার প্রায় অর্ধশত বছর পার হয়ে গেল কিন্তু এত লম্বা সময়ের পরও তাদের মাঝে কোন আলিম তৈরী হলো না। আমরা এজন্যই বলি আগে জ্ঞানার্জন কর, তারপর একত্রিত হও, যেন একত্রিত হওয়া যায় নির্দিষ্ট ভিত্তির উপর, যাতে কোন মতভেদ থাকবে না।

তাবলী জামা'আত বর্তমান সূফী মতবাদের ধারক বাহক জামা'আত। এরা চরিত্র সংশোধনের ডাক দেয় কিন্তু আক্বীদা-বিশ্বাসের সংস্কার ও সংশোধনের ডাক দেয় না। এ ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণ নিশ্চূপ। কেননা তাদের ধারণা মতে এর দ্বারা বিভক্তি সৃষ্টি হবে। জনাব সা'দ আল হুসাইন এবং ভারত-পাকিস্তানের তাবলীগের মুরব্বীদের সাথে বেশ কিছু পত্র যোগাযোগ হয়। এর দ্বারা এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তারা ওয়াসীলা, উদ্ধারকারী (ইস্তিগাসা) এবং এ ধরনের অনেক ধারণাই সমর্থন করে। প্রত্যেক তাবলীগীকে এই চার তরীকার ভিত্তিতে বাই'আত গ্রহণ করতে হবে। কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন যে এদের প্রচেষ্টায় অনেক মানুষই আল্লাহর পথে ফিরে এসেছে। বরং এদের সাথে বের হবার জন্য কিউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদের কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করার জন্য কি এটা যথেষ্ট নয়? এ ব্যাপারে বলছি যে, এটার আমরা অনেক শুনেছি এবং জানি, সূফীদের কাছে থেকে অনেক ঘটনাই জানি। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, যদি শাইখের আক্বীদাহ ফাসিদ হয়, হাদীস জানে না বরং লোকজনের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে এতদ্বসত্ত্বেও অনেক ফাসিক লোক তার হাতে তাওবাহ করে। যে দলই ভাল বা কল্যাণের দিকে ডাকবে অবশ্যই তার অনুসারী পাওয়া যাবে। কিন্তু আমরা দৃষ্টি দিবো যে, সে কিসের দিকে আহ্বান করছে? সে কি কুরআন হাদীস এবং সালফে সালিহীনের আক্বীদার দিকে ডাকছে এবং কোন মাযহাবের ব্যাপারে কোন রকম গোঁড়ামী করে না এবং যেখানেই পায় সুন্নাতের অনুসরণ করে। তাবলীগ জামা'আতের কোন ইলমী তরীকা বা পন্থা নেই। তাদের পন্থা হল স্থানের পরিপ্রেক্ষিতে যেখানে তার জন্ম হয়েছে। এরা সব রঙেই রঙ্গীন হয়। (ইমারতী ফতওয়া, আলবানী, পৃঃ ৩৮)

আল্লাহ আমাদের সকল প্রকার ধোকাবাজী হতে রক্ষা করূন। আমীন!
তথ্র সুত্র : http://media4.somewhereinblog.net/blog/murad99/29323691

২৬২০ বার পঠিত

 
মন্তব্য করতে লগিন করুন।
  

সাম্প্রতিক মন্তব্য







ছবিঘরের নতুন ছবি