logo



আমার লেখালেখি



আমার প্রিয় লেখা



আমার ছবিঘর



অনলাইনে আছেন

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর নতুন বন্ধু নাজমুল


আমাদের সাথে আছেন ৫৮ জন অতিথী
  

আনারুল এর অনলাইন ডায়েরী

এই জালিম দুনিয়ায় বেঁচে থাকা বড়ই দায় ।

ডায়েরী লিখছেন ৪ বছর ২ মাস ১৫ দিন
মোট পোষ্ট ৫০টি, মন্তব্য করেছেন ৬টি


তাবলীগ বিদআত কি না ?? এর উত্তর।।

লিখেছেন : আনারুল       তারিখ: ১৮-০১-২০১৪



“তাবলীগ”একটি আরবী শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীসমূহ অবিকলভাবে আল্লাহর বান্দা ও রাসূলের উম্মতগণের নিকট পৌছে দেওয়া।

তদ্রুপ“দাওয়াত” একটি আরবী শব্দ, যার অর্থ ডাকা, আহবান করা। ইসলামের দাওয়াতের সারকথা হচ্ছে, মানুষকে দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তির দিকে আহবান করা।

মুসলমানগণকে দাওয়াত দেওয়া শুধু বৈধই নয়, বরং আল্লাহ তা’আলার আদেশও। এ আদেশ কুরআনে রয়েছে, হাদীসে রয়েছে, ইতিহাসেও রয়েছে, রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাস্তব জীবনের সার্বিক আমলনামায়। নেই শুধু আমাদের জানা।

আরবীতে একটি মূলনীতি আছে, عدم الوجدان لا يدل علي عدم الوجود অর্থাৎ, অজানা কখনো অনস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে না। তাই উক্ত প্রশ্নের উত্তরে প্রমাণস্বরূপ ৩টি আয়াত, ৫টি হাদীস ও ৪টি ইতিহাস পেশ করা হচ্ছেঃ

কুরআন ভিত্তিক দলীলঃ

১) و ذكر فإن الذكري تنفع المؤمنين

অর্থাৎ, (ঈমানী কথা) আলোচনা করতে থাকো (অর্থাৎ দাওয়াত দিতে থাকো), কেননা নিশ্চয় ঈমানী আলোচনা (দাওয়াত ইলাল্লাহ) মুমিনদের উপকারে আসবে। (সূরা যারিয়াত, আয়াতঃ ৫৫)

২) يايها الذين آمنوا آمنوا بالله و رسوله

অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর ঈমান আনো। (সূরা নিসা, আয়াতঃ ৩৫)

এই আয়াতে আল্লাহ তা’আলা ঈমানদারগণকেই সম্বোধন করে ঈমানের দাওয়াত দিয়েছেন ঈমানকে আরো তাঁজা ও সুসংহত করার উদ্দেশ্যে। কারণ, তিনি চান নির্ভেজাল, খাঁটি ও তাঁজা ঈমান। (তাফসীরে রুহুল বায়ান ও রূহুল মা’আনীর মত)

৩) قل لم تؤمنوا و لكن قولوا أسلمنا و لما يدخل الإيمان في قلوبكم، و إن تطيعوا الله و رسوله لا يلتكم من أعمالكم شيئا

মর্মার্থ, তোমরা ঈমানদার নও; কিন্তু মুসলমান। যদি তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করো তবে তোমাদের বিন্দুমাত্র অমলও নষ্ট করা হবে না। (সূরা হুজুরাত, আয়াতঃ ১৪)

এখানেও আল্লাহ তা’আলা মসজিতে নববীতে নবীর পেছনে নামাজ সম্পাদনকারী গ্রাম্য মুসলমানগণকেই ঈমান ও আমলের দাওয়াত দিয়েছেন। দাওয়াত দেওয়ার আদেশও দিয়েছেন, আরো দিয়েছেন ক্ষমা। এ আয়াত থেকে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যামানায় ঈমানহীন মুসলমানও ছিলো।

নবীর যুগে ৫ শ্রেণীর মানুষ ছিলো, যারা আজও আছেঃ

১. খাঁটি মুসলমান

২. খাঁটি কাফের

৩. পাপী মুসলমান (ফাসেক)

৪. মুনাফিক মুসলমান (যারা মুসলমানদের সাথেই থাকতো)

৫. ঈমানহীন মুসলমান (যারা কোনমতে শুধু কালিমার বিশ্বাস নিয়ে পড়ে আছে, কিন্তু বিশ্বাস ও আস্থার পরিপূর্ণতা ও অবিচলতা নেই অথবা ঈমানবিধ্বংসী কাজে লিপ্ত, কিন্তু বংশীয় পরিচয়ে সে মুসলমান)

কে কোন দলের অন্তর্ভুক্ত তা আল্লাহই জানেন। হায় আল্লাহ! আমাদের সবাইকে ১ম শ্রেণীর মুসলমান হওয়ার তাউফীক দান করুন। আমীন।

হাদীস ভিত্তিক দলীলঃ

১) আবদে কায়সের মুসলিম-প্রতিনিধি দলকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াত দিয়ে তাদেরকেও দাওযাত দেওয়ার আদেশ দিয়ে বলেনঃ এ কথাগুলো মুখস্থ করে নাও এবং নিজের বংশধরদের কাছে পৌছে দেবে অর্থাৎ দাওয়াত দেবে। (ফাতহুল কাদীর, ইযালাতুল খাফা, সহীহ বুখারী, তাবলীগ জামাতের সমালোচনা ও তার সদুত্তরঃ শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া রাহ.)

উল্লেখ্য যে, হাদীসের উল্লেখিত “নিজের বংশধর”দের মধ্যে অনেকে মুসলমানও ছিলেন।

দেখুন বুখারী শরীফের হাদিসঃ

و عبد القيس علي أن يحفظوا الإيمان و العلم و يخبروا من وراءهم ـ رواه البخاري ـ

২) হযরত আযিম বিন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হচ্ছেঃ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আযল ও ক্বাররা গোত্রের মুসলমানদের কাছে ৬ জনের একটা জামাত পাঠিয়েছেন।

সেই সৌভাগ্যবান ৬ জন হলেন,

১. হযরত মারছায রাদিয়াল্লাহু আনহু

২. আসিম রাদিয়াল্লাহু আনহু

৩. হাবীব রাদিয়াল্লাহু আনহু

৪. খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু

৫. যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু

৬. আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

الاستيعاب গ্রন্থের এবারত দেখুনঃ

قد بعث رسول الله صلي الله صلي الله عليه و سلم لـ”عضل و قارة مرثذ بن أبي مرثذ، عاصم بن ثابت، حبيب بن عدي، خالد بن الكبير، زيد بن دثنة، عبد الله بن طارق ليتفقهوا في الدين و يعلمهم القرآن و شرائع الإسلام – الاستيعاب ـ الجزء الثاني، رقم الصفحة :خمس و ثلاثمأة

৩) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মুআয রাযিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত আবু মূসা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামানের মুমিনদের কাছেই পাঠিয়েছিলেন। (মুসলিম শরীফ, অধ্যায়ঃ সাহাবায়ে কেরামের জীবনী)

৪) عن جرير ابن عبد الله قال: بايعت رسول الله صلي الله عليه و سلم علي إقام الصلاة و إيتاء الزكاة و النصح لكل مسلم ـ حياة الصحابةـ

মর্মার্থ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত জারীর ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ৩টি কাজ করার জন্য শপথ পড়িয়েছেন। ১.নামাজ কায়েম করা, ২.যাকাত আদায় করা, ৩.দুনিয়ার সমস্ত মুসলমিদের কাছে তাবলীগ করা। (মুসলিম শরীফ, অধ্যায়ঃ সাহাবায়ে কেরামের জীবনী। আলকাউসার অভিধানের ৫৭৩ পৃষ্ঠায় বলা আছে, النصح শব্দ যখন আল্লাহ তা’আলার ক্ষেত্রে পযোজ্য হয় তখন তার অর্থ দাড়ায় “খাঁটি হওয়া”, আর বান্দার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে অর্থ হয় “উপকার করা, তাবলীগ করা, উপদেশ দেওয়া, ইত্যাদি)

৫) عن قيس سمعت جريرا يقول بايعت رسول الله صلي الله عليه و سلم علي شهادة أن لا إله إلا الله و أن محمدا رسول الله و إقام الصلاة و إيتاء الزكاة و السمع و الطاعة و النصح لكل مسلم ـ الصفحة التاسعة الثمانون و مأتين ـ

অর্থাৎ, হযরত কায়েস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি হযরত জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট কয়েকটি বিষয়ে শপথ পড়েছি। ১. কালিমায়ে তাইয়িবার সাক্ষ্যপ্রদান

২. নামাজ কায়েম করা

৩. যাকাত আদায় করা

৪. (আল্লাহ ও তার রাসূলের আদেশসমূহ) মনযোগ সহকারে শোনা

৫. (আল্লাহ ও তার রাসূলের) নিঃসর্ত আনুগত্য করা

৬. সমস্ত মুসলমানের নিকট তাবলীগ করা। (হায়াতুস সাহাবাহ, বুখারী শরীফ, পৃষ্ঠাঃ ২৮৯)

উপরোক্ত ১নং আয়াতে “মুমিনগণ” ও উক্ত হাদীসদ্বয়ে “মুসলিমগণ” শব্দ ব্যবহার করে মুমিন-মুসলিমদেরকে বিশেষভাবে দ্বীন বুঝিয়ে দাওয়াত দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। (রূহুল বায়ান ও রূহুল মা’আনী ও বিভিন্ন তাফসীরের মত)

এছাড়াও আরো এতদসংক্রান্ত আরো হাদীস পাবেন নাসায়ী শরীফের ২য় খণ্ডের ১৬১-১৬৩ পৃষ্ঠায় ও মুসলিম শরীফের ২য় খণ্ডের ১৩০-১৩১ পৃষ্ঠায়। দেখে নেওয়ার জন্য অনুরোধ থাকলো।

ইতিহাস ভিত্তিক দলীলঃ

১) স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাররা, সিরিয়া ও ইয়েমেন প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় এবং আমল; আবদে কায়স ও বনু হারিস গোত্রের মুমিন-মুসলমানদের কাছেই তাবলীগ ও তালিমের জন্যেই অনেক জামাত পাঠিয়েছিলেন। (বুখারী শরীফ, অধ্যায়ঃ باب تحريض النبي صلي الله عليه و سلم অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উৎসাহদান, ইবনে খালদূন, পৃষ্ঠাঃ ৮১৮, ইবনে সা’দ রচিত “তাবাকাত”, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠাঃ ১৩৭, তাফসীরে তাবারী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠাঃ ৯৪, উসদুল গাবাহ, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠাঃ ৩৭৬-৩৭৮)

২) ফাতহুল কাদীর ঘোষণা দিচ্ছেঃ সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম তাবলীগের উদ্দেশ্য একুফা ও কারকীসিয়া সফর করেছেন। হযরত উমর, হযরত সাকিল বিন ইয়াসার ও হযরত আবদুল্লাহ বিন মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রমুখের এক জামাত সিরিয়া প্রেরিত হয়েঠছিল। এসব জামাত মুসলমানদের উদ্দেশ্যেই প্রেরিত হয়েছিলো। (ফাতহুল কাদীর, ইযালাতুল খাফা, হায়াতুস সাহাবাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠাঃ ১৪৩-১৪৫)

৩) কায়স ইবনে আসিম রা. এর আমীরত্বে তামীমের বিভিন্ন মুসলিম গোত্রেই তাবলীগের উদ্দেশ্য ৯ম হিজরী/৬৩১খৃষ্টাব্দ ১২ জনের এক জামাত বের হয়েছিলো। (আল ইস্তী’আব, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠাঃ ৩০৫)

৪) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবদুল্লাহ বিন তারিকের নেতৃত্বে আযল ও ক্বাররা গোত্রের মুসলমানদের কাছেই ৬২৫ খৃষ্টাব্দে ৬ জনের এক জামাত পাঠান।

সেই সৌভাগ্যবান ৬ জন হলেন,

১. হযরত মারছায রাদিয়াল্লাহু আনহু

২. আসিম রাদিয়াল্লাহু আনহু

৩. হাবীব রাদিয়াল্লাহু আনহু

৪. খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু

৫. যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু

৬. আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

الاستيعاب গ্রন্থের এবারত দেখুনঃ

قد بعث رسول الله صلي الله صلي الله عليه و سلم لـ”عضل و قارة مرثذ بن أبي مرثذ، عاصم بن ثابت، حبيب بن عدي، خالد بن الكبير، زيد بن دثنة، عبد الله بن طارق ليتفقهوا في الدين و يعلمهم القرآن و شرائع الإسلام – الاستيعاب ـ الجزء الثاني، رقم الصفحة :خمس و ثلاثمأة

শেষ কথাঃ উক্ত আয়াত, হাদীস, ইতিহাস ও নবীর বাস্তব জীবনের কর্মপন্থা এবং মুসলমানদের ঈমানী অবস্থা তাদের দাওয়াতের দলীলভিত্তিক সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করছে। অতএব, এটি পরিস্কার যে, মুসলমানদেরকে দাওয়াত না দেওয়া সুস্পষ্ট কুরআন-সুন্নাহ বিরুধী জঘন্য অপরাধ ও ইসলামের অমোঘ বিধান রহিত করণের নামান্তর। নাউযু বিল্লাহ।

৬৪০ বার পঠিত

 
মন্তব্য করতে লগিন করুন।
  

সাম্প্রতিক মন্তব্য



ছবিঘরের নতুন ছবি