logo



আমার লেখালেখি



আমার প্রিয় লেখা



আমার ছবিঘর



অনলাইনে আছেন

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর নতুন বন্ধু নাজমুল


আমাদের সাথে আছেন ৫৯ জন অতিথী
  

আনারুল এর অনলাইন ডায়েরী

এই জালিম দুনিয়ায় বেঁচে থাকা বড়ই দায় ।

ডায়েরী লিখছেন ৪ বছর ২ মাস ১৫ দিন
মোট পোষ্ট ৫০টি, মন্তব্য করেছেন ৬টি


মমি রহস্য: মিশরের ভ্যালি অফ দি কিং-এ লুকানো রাজকীয় সমাধি

লিখেছেন : আনারুল       তারিখ: ০১-০১-২০১৪



গবেষকদের মতে, প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় অনুসন্ধানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মিশরের ভ্যালি অফ দি কিং- এ প্রায় ৩,০০০ বছর পুরাতন সমাধি ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। প্রত্নতত্ত্ববিদগণের ধারণা এখানে অবশ্যই লুকিয়ে আছে রাজকীয় সমাধি। সেগুলো সহ অন্যান্য ছোট সমাধি গুলোতে অনেক লুকানো ধন সম্পদ পাওয়া যেতে পারে বলেও তাদের ধারণা।

২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে, গ্লেন ড্যাশ ফাউন্ডেশন এর প্রত্নতাত্ত্বিকগণ ১০৭০ থেকে ১৫৫০ খ্রিস্টপূর্ব সময়ের কিছু সমাধি খনন করেছেন। ইতোমধ্যে তারা এই ভ্যালির বেশ কিছু জিনিস আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। তার মধ্যে একটি হলো প্রাচীন মিশরের বন্যা নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা। তবে রাজা তুতানখামুনের সময়ে অজ্ঞাত এক কারনে এটা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে তখন অনেক সমাধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই প্রজেক্ট এর পরিচালক ডঃ আফিফি ঘনিম LiveScience এর এক জার্নালে বলেছেন, “ আমাদের টিম এই ভ্যালি থেকে বিপুল সংখ্যক তথ্য সংগ্রহ করেছে, যার সবটা পরীক্ষা করে সম্পূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ করতে প্রায় এক যুগ এর মত সময় লাগতে পারে।” তিনি রাজা টুট এর কফিন আবিষ্কারকে ইঙ্গিত করে বলেন যে প্রজেক্টি মূলত হওয়ার্ড কারটারের সময়ের পর সবচেয়ে বিস্তৃত একটি পর্যবেক্ষণ।

অনাবিষ্কৃত সমাধির সন্ধান

ডঃ আফিফি ঘনিম এর মতে, “সম্প্রতি খুঁজে পাওয়া কেভি ৬৩ ও ৬৪-এর মত অনেক ছোট ছোট সমাধি পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কোন রাজকীয় সমাধি পাওয়ার ধারণাকেও একেবারে উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। কারণ এখন পর্যন্ত অষ্টাদশ রাজবংশীয় রানীদের এবং নতুন কিংডমের ফারাওদের সমাধি খুঁজে পাওয়া যায় নি। এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরন হল অষ্টম রামেসেস।”

ঠিক একই রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিখ্যাত এবং একই সঙ্গে বিতর্কিত প্রত্নতাত্ত্বিক, যাহি হাওয়াস। হাওয়াস এর পূর্বে ভ্যালি অফ দ্য কিং দলের লিডার ছিলেন।

“দ্বিতীয় থাতমস এর সমাধি, অষ্টম রামেসেস এর সমাধি, অষ্টাদশ রাজবংশের সকল রানির সমাধি (১৫৫০-১২৯২), যেগুলো কিনা এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি সবগুলো ভ্যালিতে সমাহিত করা ছিল” এটাই ব্যক্ত করেছিলেন হাওয়াস তার লেকচারে যিনি কিনা একই সাথে প্রত্নতত্ত বিভাগের মন্ত্রী ছিলেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছিলেন যে এটি প্রত্নতত্তের নতুন একটি অধ্যায় হতে পারে।

গনিম জানান যে, এটা এখনও বলা সম্ভব নয় যে কয়টি সমাধি এখনও আবিষ্কার করা বাকি আছে তবে তা যে শুধু "কয়েকটি" নয় সে সম্পর্কে নিশ্চিত। ভ্যালি অফ দ্য কিং এ শক্তিশালী রাডার দিয়েও সমাধি খুঁজে পাওয়া দুরূহ বিষয়। যেখানে কিনা রাডার প্রযুক্তি কোন প্রকার ক্ষয়-ক্ষতি না করে শুধুমাত্র উচ্চমাত্রার রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির প্রতিফলন নির্ণয়ের মাধ্যমে মাটির তলায় অবস্থিত বস্তু খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞানীরা জানান যে, রাডার এর সরঞ্জাম এবং এর সম্পর্কিত কম্পিউটিং দক্ষতা গত কয়েক দশকে প্রচুর উন্নত হয়েছে। কিন্তু এরপরেও ভ্যালি অফ দ্য কিং এর মতন জায়গায় কোনো কিছু খুঁজে পাওয়া দুস্কর যেখানে কিনা ভুল তথ্যপ্রবাহ পাওয়া যায়। কারণ এখানে এমন অনেক স্থান রয়েছে যা কিনা প্রাকৃতিক কারনে দেয়াল অথবা সমাধির মতন দেখতে লাগে। তবে এ সকল কাজ এই প্রযুক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করেছে যা ফলে এটা আরও নিখুঁতভাবে সমাধিগুলো খুঁজে বের করতে সাহায্য করে।

উদাহরণ স্বরূপ,এর আগে আরেকটি গবেষক দলের রাডার প্রযুক্তিতে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা জানান যে আমরনা অধ্যায়ের সমাধি এই প্রধান ভ্যালির কিছু অংশে পাওয়া যেতে পারে। এ তথ্যের উপর ভিত্তি করে তারা সমাধি খুঁজতে থাকেন তবে তারা তেমন কিছু খুঁজে পায়নি।

যখন কোন প্রাচীন সমাধির অংশ বিশেষ খুঁজে পাওয়া যায়, তখন এর মধ্যে তারা প্রকৃত মমি খুঁজে পাওয়া নাও যেতে পারে। যেমন কেবি৬৪, একটি ক্ষুদ্র সমাধি যা কিনা ২০১১ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ব্যাসেল খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। তাতে বিজ্ঞানীরা নেহমেস ব্যাসটেট নামক এক গায়িকার দেহ খুঁজে পেয়েছিল যিনি কিনা প্রায় ২,৮০০ সাল আগে মারা গেছে।

তারপরেও গনিম আশাবাদ জানিয়েছেন যে, তারা সমাধিগুলোকে প্রকৃত দেহসহ খুঁজে পেতে পারে। তিনি বলেন, “এটা অসম্ভব না যে এক বা একাধিক এখনও বহাল তবিয়তে আছে।“ আর এটা যদি সত্যি হয় তবে তারা তাদের মস্তিষ্কও খুঁজে পেতে পারে। যেহেতু হাওয়াস এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর সাহের সালিম জানিয়েছেন যে, মিশরীয়রা তাদের ফারাও-এর মস্তিস্ক মমি তৈরির সময় সরিয়ে নিত না


গবেষকদের মতে, প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় অনুসন্ধানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মিশরের ভ্যালি অফ দি কিং- এ প্রায় ৩,০০০ বছর পুরাতন সমাধি ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। প্রত্নতত্ত্ববিদগণের ধারণা এখানে অবশ্যই লুকিয়ে আছে রাজকীয় সমাধি। সেগুলো সহ অন্যান্য ছোট সমাধি গুলোতে অনেক লুকানো ধন সম্পদ পাওয়া যেতে পারে বলেও তাদের ধারণা।

২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে, গ্লেন ড্যাশ ফাউন্ডেশন এর প্রত্নতাত্ত্বিকগণ ১০৭০ থেকে ১৫৫০ খ্রিস্টপূর্ব সময়ের কিছু সমাধি খনন করেছেন। ইতোমধ্যে তারা এই ভ্যালির বেশ কিছু জিনিস আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। তার মধ্যে একটি হলো প্রাচীন মিশরের বন্যা নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা। তবে রাজা তুতানখামুনের সময়ে অজ্ঞাত এক কারনে এটা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে তখন অনেক সমাধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রাচীন বন্যা নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা

গবেষকরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন যে, মিশরীয়রা একটি বন্যা নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা প্রস্তুত করেছিল যার মাধ্যমে তারা কিছু সময়ের জন্যে সমাধিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারতো তারা। বিজ্ঞানীরা একটি শুকনো পানির ধারা আবিষ্কার করেছেন যা বর্তমান ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩২ ফিট অথবা ১০ মিটার নিচে অবস্থিত। বন্যা নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাচীন মিশরীয়রা ধারটি খালি করে দিত এবং কিছু পার্শ্ব ধারা প্রস্তুত করত যা কিনা পানির প্রবাহকে অন্যদিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। যার ফলে পানি সমাধির কোন প্রকার ক্ষতি না করে প্রবাহিত হতে পারত।

তবে অদ্ভুত ব্যাপার হলো মিশরীয়রা এটি প্রস্তুত করা সত্ত্বেও খুব দ্রুত তারা এর উপর নির্ভর করা ছেড়ে দেয়। কারণ তুতেনখামুন এর সময় আসতে আসতে বন্যা সমস্যা আবার দেখা দেওয়া শুরু করেছিল।
“এটা সমাধিগুলোর জন্যে একটি সমস্যা ছিল বটে, কিন্তু তুতেনখানুম এর জন্যে ভালো ছিল। কারণ এর ফলে একটি তত্ত্ব মতে সমাধিটি পরিপূর্ণ ভাবে আটকে দিতে সাহায্য করে। যার ফলে পরবর্তীতে চোররা সহজে সমাধিতে প্রবেশ করতে পারেনি।

তবে আজও ভ্যালি অফ দ্য কিং এর জন্য বন্যা একটি সমস্যা এবং বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছে একটি পদ্ধতি বের করার এর সমাধানের জন্যে। এর পূর্বে অনেক গবেষণা হয়েছে কি করা যায় তার বিষয়ে মতামত প্রদান করে। কিন্তু ভ্যালিটি উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট খরচও একটি সমস্যা। এছাড়া এ নিয়ে সকলের সম্মতি থাকা প্রয়োজন।

আরও অনেক নতুন আবিষ্কার সম্পর্কে বিস্তারিত ভবিষ্যতে বিভিন্ন পাবলিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। যার মধ্যে রয়েছে কিছু হাট যা কিনা সমাধি প্রস্তুতকারি কর্মীদের দ্বারা ব্যবহার করা হয়েছিল এবং গ্রাফিটির ডকুমেন্টেশন যা কিনা পুরো ভ্যালির ইতিহাস বর্ণনা করে।

৩৯৩ বার পঠিত

 
মন্তব্য করতে লগিন করুন।
  

সাম্প্রতিক মন্তব্য



ছবিঘরের নতুন ছবি