logo



আমার লেখালেখি



আমার প্রিয় লেখা



আমার ছবিঘর



অনলাইনে আছেন

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর নতুন বন্ধু নাজমুল


আমাদের সাথে আছেন ১ জন অতিথী
  

আনারুল এর অনলাইন ডায়েরী

এই জালিম দুনিয়ায় বেঁচে থাকা বড়ই দায় ।

ডায়েরী লিখছেন ৪ বছর ৪ মাস ১৭ দিন
মোট পোষ্ট ৫০টি, মন্তব্য করেছেন ৬টি


গোলাম আজমের রায় ৯০ বছরের কারাদণ্ড

লিখেছেন : আনারুল       তারিখ: ১৫-০৭-২০১৩



জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ পাঁচটি হলো ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি, সংশ্লিষ্টতা এবং হত্যা ও নির্যাতন। অভিযোগের সঙ্গে অপরাধের দায়দায়িত্ব হিসেবে আনা হয়েছে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়। একটি সাজা শেষ হওয়ার পর আরেকটি সাজা—এভাবে পর্যায়ক্রমে দণ্ডাদেশ কার্যকর হবে।
বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন। তবে আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তিনি (গোলাম আযম) যে অপরাধ করেছেন, তা মৃত্যুদণ্ডতুল্য। কিন্তু তাঁর বয়স বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
এ রায়ের মধ্য দিয়ে একাত্তরে এ দেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি মামলার বিচার শেষ হলো।
এর আগে ঘোষিত চারটি রায়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ দিয়েছেন একটি, বাকি তিনটি রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর তিনটিই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।
চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রথম রায় দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই রায়ে জামায়াতের সাবেক সদস্য (রুকন) পলাতক আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি একই ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। তৃতীয় রায় আসে ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে; ২৮ ফেব্রুয়ারি দেওয়া ওই রায়ে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ৯ মে চতুর্থ রায়ে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।
পাঁচ অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত: একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালের পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ছয়টি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে একাত্তরের ৪ ও ৬ এপ্রিল অবরুদ্ধ বাংলাদেশের সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক, ১৯ জুন ও ১ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠক। এই ষড়যন্ত্রের দায়ে তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনার অভিযোগে তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ৪ এপ্রিল টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক, যার ধারাবাহিকতায় ৯ এপ্রিল ঢাকায় ১৪০ সদস্যের নাগরিক শান্তি কমিটি গঠন এবং ৪ মে শান্তি কমিটির সভা।
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে গঠিত তৃতীয় অভিযোগ উসকানি। এই অভিযোগের দায়ে তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে উসকানির ২৮টি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ৭ এপ্রিল স্বাধীনতাকামী মানুষকে ‘ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী’ উল্লেখ করে গোলাম আযমের যুক্ত বিবৃতি; ১৭ মে ঢাকায় এক সভায় স্বাধীনতা আন্দোলনকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ’ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ উল্লেখ করে বক্তব্য; ১৬ জুলাই রাজশাহী, ১৮ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৪ আগস্ট খুলনা, ৭ আগস্ট কুষ্টিয়াসহ অনেক এলাকায় বিভিন্ন সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রভৃতি।
মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা বা সম্পৃক্ততার ২৩টি ঘটনা দিয়ে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে চতুর্থ অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১৮ জুন লাহোর বিমানবন্দরে বক্তব্য, ১৯ জুন রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠক এবং ২০ জুন লাহোরে সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য। এই অভিযোগে তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ একটি। এ অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ২১ নভেম্বর তাঁর লেখা চিঠির নির্দেশ অনুসারে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরু মিয়া, তাঁর ছেলে আনোয়ার কামালসহ ৩৮ জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলি করে হত্যা করে রাজাকার ও আলবদররা। এই অভিযোগের দায়ে গোলাম আযমকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে মামলা ট্রাইব্যুনালে: ২০১১ সালের ১ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত সংস্থা গোলাম আযমের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলির কাছে দাখিল করে। ১২ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ, তাঁকে গ্রেপ্তারের আবেদনও জানানো হয়। কিন্তু অভিযোগ ‘অগোছালো ও অবিন্যস্ত’ হওয়ায় ২৬ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল তা রাষ্ট্রপক্ষকে ফেরত দেন। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ দ্বিতীয় দফায় অভিযোগ দাখিল করলে ৯ জানুয়ারি তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন গোলাম আযম। ট্রাইব্যুনাল তা খারিজ করে তাঁকে কারাগারে পাঠান। ওই সময় থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের কারাকক্ষে আটক রয়েছেন। ১৩ মে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
একাত্তরের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে গোলাম আযম পাকিস্তানে চলে যান। স্বাধীনতার পর তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। ১৯৭৮ সালের ১১ জুলাই প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে তিনি পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। ১৯৯৪ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তাঁর নাগরিকত্বও পুনর্বহাল হয়। ১৯৯১-২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে গোলাম আযম
রায় ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে নেওয়া হয়েছে।

৪৭৯ বার পঠিত

 
মন্তব্য করতে লগিন করুন।
  

সাম্প্রতিক মন্তব্য



ছবিঘরের নতুন ছবি